সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার কালিঞ্চী গ্রামে তিন জলদস্যুকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসে। আটক জলদস্যুরা হলেন, সুন্দরবনের মুজিবর বাহিনীর সদস্য বাগেরহাটের রামপালের কাপাসডাঙ্গা গ্রামের ফরহাদ গাজী (২৫), খুলনা জেলার ফুলতলা দামুদর গ্রামের হারুনর রশীদ (২৫) ও শ্যামনগরের পাতাখালী গ্রামের মৃত আদম আলী (৩০)।
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সকালে জলদস্যু মুজিবর ও আমজাদ বাহিনীর মধ্যে গহীন সুন্দরবনের মাথাভাঙ্গা নদীতে সুন্দরবনে আধিপত্য নিয়ে বন্দুকযুদ্ধ হয়। এসময় উভয় পক্ষে শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয় বলে একটি সূত্র জানায়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কিছু বনদস্যু গুলিবিদ্ধ হয়। এদের মধ্যে ফরহাদ গাজী, হারুনর রশীদ ও আদম আলী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লোকালয়ে চিকিত্সা নিতে ট্রলারে শ্যামনগরের সুন্দরবন সংলগ্ন কালিঞ্চী গ্রামে আসে। এসময় স্থানীয় লোকজন চিনতে পেরে ঐ তিন জলদস্যুকে ধরে গণপিটুনি দেয়। শ্যামনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তারক বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে সাড়ে ১০টায় তিনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এবং তাদেরকে গুরুতর অবস্থায় আটক করেন। তাদেরকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। উল্লেখ্য, জলদস্যু মুজিবর বাহিনীর সদস্যরা সম্প্রতি সুন্দরবনের গহীন থেকে শ্যামনগরের কালিঞ্চী গ্রামের রব্বানী বরকন্দাজের ছেলে হাফিজুল বরকন্দাজ, কেরামত গাজীর ছেলে আলাউদ্দীন ও আব্দুুল হামিদের ছেলে মোস্তাফিজকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে। মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করে গত রবিবার তারা বাড়িতে ফিরে আসে। ঐ জলদস্যুদের দলে শ্যামনগরের পাতাখালী গ্রামের আদম আলীও ছিল বলে ফিরে আসা জেলেরা পুলিশকে জানিয়েছে। পশ্চিম সুন্দরবনের এসিএফ কেরামত আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী ঘটনা নিশ্চিত জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
