চার সিটি মেয়রের শপথে আইনি বাধা দূর হচ্ছে!

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৩, ২২:৩৫
সদ্য অনুষ্ঠিত চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী মেয়রদের দায়িত্ব দেয়ার পথে আলোচিত আইনি বাধা অপসারণের লক্ষ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। নবনির্বাচিতদের শপথ পড়ানো ও শপথের পর দায়িত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে কোন আইনি জটিলতা হবে কি না এবং নবনির্বাচিতদের কাছে দায়িত্ব দেয়া হলে পূর্ববর্তী কাউন্সিলদের অবস্থান কি হবে—এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত জানতে চায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত পাওয়ার পরই নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচিতদের নাম গেজেটে প্রকাশ করার পরবর্তী এক মাসের মধ্যে নবনির্বাচিত মেয়রদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। ওই নির্বাচনে মেয়র পদে চারটিতেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। এরা হলেন—রাজশাহীতে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, খুলনায় মনিরুজ্জামান মনি, বরিশালে আহসান হাবিব কামাল ও সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরী।স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম শহীদ খান ইত্তেফাককে জানান, যেহেতু মেয়ররা পদত্যাগ করেই নির্বাচন করেছেন সেজন্য তাদের পদ শূন্য হয়েছে। এখন শূন্য পদে নবনির্বাচিতদের দায়িত্ব প্রদানে আইনগত জটিলতা থাকার কথা নয়। কিন্তু আইনে যেহেতু মেয়রের মেয়াদকাল পাঁচ বছর উল্লেখ আছে সে ক্ষেত্রে তার আগে কাউকে দায়িত্ব দেয়ার বিষয়ে আইনজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া হতে পারে। তিনি অবশ্য বলেন, অকারণে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বের বাইরে রাখা হবে না। ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের পূর্ববর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী এ বছরের ৭ অক্টোবরের মধ্যে বরিশাল, ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজশাহী ও সিলেট, ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খুলনার নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ৬ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, ‘করপোরেশনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এবং তা নির্ধারণ হবে করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে। আর এই মেয়াদ অবসানের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করারও বিধান রয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই চার মেয়রকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিতে হয়েছে। তবে কাউন্সিলরদের পদত্যাগ করতে হয়নি। নতুন করে ফের জয়ী বা পুরাতন যারা পরাজিত হয়েছেন সেসব কাউন্সিলররা মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বপদে বহাল থাকতে পারবেন। আইনের ৭ ধারার উপ-ধারা ২-এ উল্লেখ রয়েছে, গেজেট প্রকাশের এক মাসের মধ্যে নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরকে শপথ গ্রহণ করতে হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে তারা শপথ না পড়েন, তাহলে তাদের পদ শূন্য ঘোষিত হবে। প্রসঙ্গত, শপথ গ্রহণের মধ্যদিয়ে নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করে থাকেন। অক্টোবরের আগে শপথ নিলে একই সিটি করপোরেশনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকবেন দু’দল। একদল নবনির্বাচিত, আরেক দল বিদায়ী। অন্যদিকে একই করপোরেশনে একজন থাকবেন নবনির্বাচিত মেয়র ও অন্যজন প্যানেল মেয়র। এ কারণে পুরাতনদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত শপথ অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করতে পারবে না সরকার।