কবি সুফিয়া কামালের ১০২তম জন্মদিন আজ। মানবতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ও নারী জাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্ব তিনি। ১৯১১ সালের এই দিনে বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা ভাষার বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। বহু গুণাবলীর কারণে বাংলার মানুষ তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করে। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ কবি সুফিয়া কামালের জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল বুধবার দেয়া এক বাণীতে বলেছেন, নারী অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন সোচ্চার ও নিবেদিতপ্রাণ। তার রচিত সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মকে গভীর দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে। অপর এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একদিকে আবহমান বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি, মমতাময়ী মা; অন্যদিকে বাংলার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল তার আপোষহীন এবং দৃপ্ত পদচারণা।
সুফিয়া কামাল যে পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেখানে নারী শিক্ষাকে প্রয়োজনীয় মনে করা হতো না। তার বাবা সৈয়দ আবদুল বারী ছিলেন একজন আইনবিদ। মা সাবেরা বেগমের কাছে সুফিয়া কামাল পড়তে শিখেন। মাত্র বারো বছর বয়সে সৈয়দ নেহাল হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়। তার স্বামী সাহিত্য পাঠে তাকে আগ্রহী করে তোলেন। যা পরবর্তী সময়ে সাহিত্য রচনায় তাকে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। তার স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে ১৯৩২ থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা করপোরেশন প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। এর মাঝে ১৯৩৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁঝের মায়া’ প্রকাশিত হয়। যার ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ বইটির প্রশংসা করেছিলেন। ১৯৩৯ সালে কামালউদ্দীন আহমেদের সাথে তার বিয়ে হয়।
তিনি ছিলেন বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম পরিষদ (বর্তমানে মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ছায়ানটের সভাপতি ছিলেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে মায়া কাজল, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী, দিওয়ান, মোর জাদুদের সমাধি পরে প্রভৃতি। গল্পগ্রন্থ:কেয়ার কাঁটা। ভ্রমণকাহিনী:সোভিয়েত দিনগুলি। স্মৃতিকথা:একাত্তুরের ডায়েরি। কবি সুফিয়া কামাল ৫০টিরও অধিক পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে স্বাধীনতা দিবস পদক, একুশে পদক, বাংলা একাডেমী, সোভিয়েত লেনিন, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পুরস্কার উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। বাংলাদেশি নারীদের মধ্যে তিনিই প্রথম এ সম্মান লাভ করেন।
জন্মদিন উপলক্ষে নানা আয়োজন
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় ‘মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলন এবং সুফিয়া কামাল’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করেছে। বক্তৃতা দিবেন লালন গবেষক অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী। এছাড়াও এই বছর এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে সুফিয়া কামাল সম্মাননা পদক প্রদান করবে। থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এদিকে ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুফিয়া কামালের জন্মদিন উপলক্ষে ছায়ানট প্রতিবছরের মতো এবারও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ উপলক্ষে ধানমণ্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে আজ বেলা ১১টায় সাংবাদিক সম্মেলন এবং আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শুরু হবে ‘বর্ষা উত্সব’। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সুফিয়া কামালের জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
