পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধিত)-২০১৩ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপন করার প্রতিবাদে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের ডাকা তিন পার্বত্য জেলায় ৭২ ঘন্টা হরতালের দ্বিতীয় দিন উল্লেখযোগ্য সহিংস ঘটনা ছাড়াই পার হয়েছে। ইত্তেফাক সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, পার্বত্য তিন জেলায় ৭২ ঘন্টা হরতালের দ্বিতীয় দিন গতকাল বুধবার খাগড়াছড়িতে বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে অতিবাহিত হয়েছে। হরতালের প্রথমদিন পিকেটার না থাকলেও গতকাল জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় পিকেটিং হয়েছে। রামগড়ের বড়পিলাকে একটি মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় পিকেটাররা। এতে ২ জন আহত হয়। হরতালের দ্বিতীয় দিনে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সড়কে কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম ও ফেনী-খাগড়াছড়ি সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। হরতাল চলাকালে জেলা শহর ও উপজেলার অধিকাংশ দোকানপাঠ বন্ধ ছিল। অফিস, আদালত, ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকদের উপস্থিতি ছিল খুব কম।
এদিকে তিন পার্বত্য জেলায় হরতাল আহবানকারী সংগঠন পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভুঁইয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, হরতাল চলাকালে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রামগড় পৌরসভার মেয়র কাজী রিপন পাতাছড়া এলাকায় দলবল নিয়ে হরতালে বাধা ও হরতাল সমর্থনকারীদের বেদম প্রহার করে। এতে নূরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও ইব্রাহীমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মহালছড়ি (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা জানান, দ্বিতীয় দিনে মহালছড়িতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল হয়েছে। ১ম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও পুলিশের কঠোর অবস্থানের মধ্যে সকাল হতে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের কর্মীবৃন্দ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করতে দেখা গেছে। স্থানীয় কিছু দোকানপাট খোলা থাকলেও কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করেনি। তবে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, ৭২ ঘন্টা হরতালের দ্বিতীয় দিন শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। বুধবার সকাল থেকেই বান্দরবানে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অবস্থান নেয়। টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং রাস্তায় অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। টানা হরতালের কারণে বান্দরবান-চট্টগ্রাম, বান্দরবান-রাঙ্গামাটিসহ অভ্যন্তরীণ সবগুলো সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকে শহর ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো যানবাহনও। বন্ধ রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং দোকানপাটও। এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরে বিপুল পরিমাণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও বিক্ষোভ মিছিলের মধ্যদিয়ে ৭২ ঘন্টা হরতালের দ্বিতীয় দিন পালিত হয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই হরতালের সমর্থনে শহরের কয়েকটি পয়েন্টে হরতাল সমর্থকরা পিকেটিং করে। শহরের রাজবাড়ি, রিজার্ভ বাজার, কলেজ গেট, কাঁঠালতলীতে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি রাস্তায় টায়ারে আগুন দিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে শহরে পিকেটাররা ৩টি মৌসুমি ফল বোঝাই ট্রাকে হামলা চালিয়েছে। এতে দুই জন আহত হয় বলে দাবি করেছে ফল ব্যবসায়ীরা। শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। শহরের অফিস-আদালত, ব্যাংক, স্কুল-কলেজ খোলা থাকলেও উপস্থিতি ছিল কম। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশের উপস্থিতির পাশাপাশি আইন-শৃংখলা বাহিনীর টহল দেখা গেছে।
