তিন বাপবেটা মিলে আমরা একদিন সমুদ্র দেখতে যাব

আপডেট : ২০ জুন ২০১৩, ১৯:০৬
আমি, ওমার এবং ওসমান মিলে একসাথে এখনো আমাদের কোনো সমুদ্র দেখা হয়নি, ড্রইং খাতায় আমার শিশুরা আঁকে সৈকত আর স্যান্ডক্যাসলের ছবি। আমি ধ্যানমগ্ন হয়ে দেখি, আর শুনি— মহীসোপান বেয়ে ড্রইং খাতায় সিক্ত সৈকত বালিয়াড়ি আর নুড়ি-পাথরের ওপর ঢেউয়ের উচ্ছ্বাস... আমরা সত্যি সত্যি একদিন সমুদ্রের তীরে দাঁড়াব একসাথে ছয়টি হাত ডোবাব জলে মুহূর্তের মধ্যে আমরা মিশে যাব আমার পিতা-পিতামহ থেকে শুরু করে মহাকালব্যাপী পূর্বপুরুষদের সেইসব স্পর্শের সাথে... নোনাজলে আসমানি নীলে ইথারে ইথারে অনাগত কোনো শিশুশিল্পীর তুলিতে তিন বাপবেটা মিলে আমরাও ছবি হয়ে যাব, তখন আমাদের মাথার উপরে উড়তে থাকবে কয়েকটি অপার্থিব গাংচিল... একের পর এক সামার ভ্যাকেশন চলে যায়, আমি কথা রাখতে পারি না— অবলীলায় আমার শিশুরা আমাকে ক্ষমা করে দেয়, দমবন্ধ নাগরিক দেয়ালের ভিতরে আমরা আবারও মেতে উঠি সমুদ্রের গল্পে আর ছবিতে... প্রতিবার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের অপরাধবোধে আমি ছোট থেকে ছোটতর হতে থাকি, আর একদিন বাবার সাথে সমুদ্রকে ছোঁব বলে সাতসমুদ্রের সীমা ছাড়িয়ে দিন-দিন আরও বড় হতে থাকে আমার শিশুদের কল্পনার সমুদ্র।