সংসদে কৈফিয়ত দিলেন মওদুদ সুরঞ্জিত পাপিয়া

আপডেট : ২০ জুন ২০১৩, ২১:৪৭
জাতীয় সংসদে বুধবার সরকারি দল ও বিরোধী দলের কয়েকজন সিনিয়র সদস্য ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিয়েছেন। এছাড়া পয়েন্ট অব অর্ডারে কিছু বিষয়ে অনির্ধারিত আলোচনাও হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অংশ নেন অনির্ধারিত আলোচনায়। তবে এ সময় আলোচনায় স্থূল কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা অনাহূত কোনো উত্তাপ ছিল না। বরং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও তোফায়েল আহমদ পরস্পরের প্রশংসা করেন। সূক্ষ্ম কায়দায় পরস্পরকে টিপ্পনিও কেটেছেন তারা। এই পর্বে দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং বিএনপির আশিফা আশরাফী পাপিয়াও আলোচনায় অংশ নেন। স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে সংসদের অধিবেশন শুরুর পর দিনের সম্পূরক কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথমে বেশ কয়েকটি স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এরপর আগের দিনের ঘোষণা অনুযায়ী স্পিকার কয়েকজন সদস্যকে ২৭৪ বিধি অনুযায়ী ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দেয়ার জন্য সুযোগ দেন। এ সময় স্পিকার অনুরোধ জানান কাউকে আক্রমণ করে বক্তব্য না দেয়ার জন্য। প্রথমেই ফ্লোর দেয়া হয় বিএনপির সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়াকে। ফ্লোর পেয়ে তিনি বলেন, তাকে নিয়ে কয়েকদিন আগে সরকারি দলের একজন সদস্য কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। ঐ সদস্য বলেছিলেন যে, আমি হাওয়া ভবনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, আমি নাকি একাই ৩০০ পুরুষ মোকাবেলা করতে পারি এবং আমি নাকি ‘রাতজাগা’। এছাড়া সংসদের কোনো কোনো সদস্যকে ‘বিউটি কুইন’ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি দলের ঐ সিনিয়র সদস্যের প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। আমি বা আমার পরিবার হাওয়া ভবনের সঙ্গে কী জড়িত ছিলাম? হাওয়া ভবনে আদৌ কোনো দুর্নীতি কি হয়েছে? আমি কি তার সঙ্গে রাত জাগি? নাকি তিনি আমার বাড়ির প্রহরী? কিসের ভিত্তিতে এ কথা বলা হলো? এরপর দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কৈফিয়ত দিতে দাঁড়িয়ে বলেন, তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত্। তারাই এ পার্লামেন্টকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তারা আরেকটু সতর্কভাবে কথা বললে ভাল হয়। দুইদিন আগে তরুণ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ সংসদে আমাকে নিয়ে কিছু কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, আমার এপিএস ৭৫ লাখ টাকাসহ ধরা পড়ার পর আমি কেন পদত্যাগ করলাম না। কিন্তু ওই ঘটনার পর আমি যে পদত্যাগ করেছিলাম, এটা তো সব মিডিয়ায় প্রচার হয়েছিল। একইভাবে আমি হেফাজতে ইসলাম ও আল্লামা আহমদ শফিকে যে কথা বলেছিলাম, সেটা নিয়েও মন্তব্য করেছেন পার্থ। ঐ ঘটনার পরদিনই আমি ওই বক্তব্যের জন্য দু:খ প্রকাশ করেছি, যা সব পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু তিনি সেটা বলেননি। আন্দালিবের পিতার সঙ্গেও আমার ভাল সম্পর্ক ছিল। তাই তার কাছে আমি আরও উচ্চতর রুচিসম্পন্ন ও সংবিধান এবং কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বক্তব্য আশা করি। এরপর বিএনপির সিনিয়র সদস্য মওদুদ আহমেদ ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিতে দাঁড়িয়ে বলেন, আমি সেদিন পার্লামেন্টে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে একটু কথা বলেছিলাম, যাতে এ ব্যাপারে সরকারের একটা পরিষ্কার বক্তব্য পাওয়া যায়। ২০১১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল যে, এবারই তিস্তা চুক্তি হচ্ছে। দেশের মানুষও খুব আশাবাদী হয়েছিল। কিন্তু সেটা তো হয়নি। এখন গত সোমবার এখানে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনের মাত্র দুদিন আগে ভারতীয় পক্ষ হঠাত্ করেই সেই বৈঠক বাতিল করে দেয়। এ কারণে আমরা সবাই খুব হতাশ হয়েছি। তাই বিষয়টি পার্লামেন্টে তুলি। এছাড়া ভারতের আন্ত:নদী সংযোগ প্রকল্পটিও আমাদের জন্য বেশ স্পর্শকাতর। এছাড়া অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের ইস্যুটি আমাদের জীবন-মরণের সমস্যা। এটা কোনো দলের সমস্যা নয়। আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি পানি মন্ত্রীর। কিন্তু পানি মন্ত্রী কিছু বলার আগেই দাঁড়িয়ে গেলেন আমির হোসেন আমু। তিনি তো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী নন এবং পানির ব্যাপারে তার কোনো বিশেষজ্ঞতাও নেই। পরে দেখলাম এ বিষয়ে কথা বলার জন্য দাঁড়ালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এমনভাবে বক্তব্য দিলেন যে, আমি যেন কিছুই জানি না। কিন্তু আমি এটা জোর দিয়ে বলছি যে, আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিক। এ ব্যাপারে আমার প্রস্তাব হলো, পানির বিষয়ে মাননীয় মন্ত্রী ৩০০ বিধিতে একটি বক্তব্য দিতে পারেন। এসব ইস্যুতে আমরা একমত হয়ে কাজ করতে চাই। আসুন বিষয়টিকে জাতীয় স্বার্থের দৃষ্টিতে বিবেচনা করি। এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য তোফায়েল আহমদ বলেন, ব্যক্তিগত কৈফিয়তে মওদুদ আহমেদ ভাল বলেছেন। আমি তার প্রশংসা করি। তিনি যে আজ গঙ্গার পানি চুক্তির জন্য আমাদের প্রশংসা করেছেন, এটাই রাজনীতি। জাতীয় ইস্যুতে আমাদের একটা ন্যূনতম ঐকমত্য থাকা উচিত।