গাজীপুর আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার’ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় আট বছর পর দেয়া এই রায়ে দশ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোতাহার হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য এনায়তুল্লাহ ওরফে ওয়ালিদ, আরিফুর রহমান, মসিদুল ইসলাম, সাইদুর রহমান মুনসি, আবদুল্লাহ আল হোসাইন, নিজামুদ্দিন রেজা, তৈয়বুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম, শফিউল্লাহ ও আদনান সামি। রায় ঘোষণার সময় এরা আদালতে হাজির ছিলেন।
আদেশে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থাপিত সাক্ষীর সাক্ষ্য ও বিভিন্ন সময়ে মামলার আসামিদের দেয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনার পর সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণ হয় যে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছে। তাই আসামিদের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গলায় রশি ঝুলিয়ে ফাঁসি কার্যকর করা হোক।’
২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর সকালে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে বোমা হামলায় আইনজীবী, বিচার প্রার্থীসহ আটজন মারা যান। এ ঘটনায় ওই দিন সন্ধ্যায় জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করে পুলিশ। ২০০৭ সালের ৪ জুলাই ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। সং্শ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পিপি রফিকুল ইসলাম জানান, গত বছর জানুয়ারিতে মামলাটির বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য এই আদালতে পাঠান হয়। মার্চে অভিযুক্ত ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ৭০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
এদিকে মামলার অন্য পাঁচ আসামির মধ্যে জামা’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই, সামরিক শাখার প্রধান আতাউর রহমান সানি, মজলিশ এ শুরার সদস্য খালেদ সাইফুল্লাহকে ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলায় আগেই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। অপর আসামি মোল্লা ওমর কুমিল্লায় র?্যাবের অভিযানে সপরিবারে নিহত হন।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবি সারাদেশে ইসলামী আইন কায়েমের উদ্দেশ্যে সরকার ও জনমনে ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উকিল, পুলিশ, জজ, ম্যাজিস্ট্রেটদের হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসাবে এই হামলা করে। এতে হামলাকারী আসাদ ওরফে জিয়া ওরফে নাহিদ, অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন, গোলাম ফারুক, নূরুল হুদা ও আনোয়ারুল আজিম, বিচারপ্রার্থী আবদুর রব, বছিরউদ্দিন, মর্জিনা আক্তার ও শামছুল হক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন শতাধিক ব্যক্তি। যাদের অনেকে এখন প্রতিবন্ধী হয়ে জীবনযাপন করছেন।
