ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক ভেঙে টুকরো টুকরো করার সরকারি পরিকল্পনা এদেশের জনগণ সফল হতে দেবে না। তিনি বলেন, সরকার অসীম ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু মানুষের সম্মিলিত ইচ্ছার বিপরীতে অবস্থান নিয়ে সরকারের পক্ষে এককভাবে কিছু করা সম্ভব নয়। দেশের অসংখ্য হতদরিদ্র মানুষের ভাগ্য পরিবর্তিত হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে। এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তরুণ সমাজও রয়েছে। জনগণই যে কোনো বিপর্যয় থেকে গ্রামীণ ব্যাংককে রক্ষা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক সংবর্ধনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সমপ্রতি ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক কংগ্রেশনাল মেডালে ভূষিত হওয়ায় তার জন্মভূমি চট্টগ্রামে এ সংবর্ধনার আয়োজন করে ড. ইউনূস সুহূদ-চট্টগ্রাম। বেলা ১১টায় প্রথম অধিবেশনে নগরীর ৬৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ অংশগ্রহণ করেন। বক্তৃতা শেষে ড. ইউনূস শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বিকালে দ্বিতীয় অধিবেশনে তিনি চট্টগ্রামের সুধীজনদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই যারা গ্রামীণ ব্যাংকের ধারণা গ্রহণ করেনি। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে গ্রামীণ ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে ব্যাংকের ছয়টি শাখায় ১২ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষরাই সেখানে কাজ করে। ঋণ আদায়ের সাফল্য শতকরা ১০০ ভাগ।
ড. ইউনূস বলেন, আমরা যখন কাজ শুরু করি তখন মাইক্রোক্রেডিট বলে কোনো শব্দ অভিধানে ছিল না। আমরাই প্রথম ক্ষুদ্রঋণ কথাটা প্রচলন করি। আমরা আশা করেছিলাম ব্যাংকিং সিস্টেমে একটা পরিবর্তন আসবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই পরিবর্তন আসেনি। ব্যাংক সেই আগের নিয়মেই চলছে। তিনি বলেন, আমাকে বলা হত ‘ব্যাংকার টু দি পুওর’ (দরিদ্রের ব্যাংকার)। আমি এটা মেনে নিয়েছিলাম। কারণ এর বিপরীতে যা ছিল, তা হল ‘ব্যাংকার টু দি রিচ’ (ধনীদের ব্যাংকার)। তাদের জন্য আইন কানুন সব ছিল। কিন্তু আমার জন্য কিছু ছিল না। আমি সেই আইন করিয়ে নিয়েছি। এখন আবার সেটা নিয়ে বিতর্ক। এখন গ্রামীণ ব্যাংক ভেঙে ফেলতে হবে। তবে আজ পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের কোনো খুঁত খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে ড. ইউনূস উল্লেখ করেন।
ড. ইউনূস বলেন, কাজ করতে গেলে বাধা আসবেই। বাধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নামই সৃজনশীলতা। তিনি বলেন, দারিদ্র্য সভ্য সমাজের অংশ হতে পারে না। সেদিন খুব বেশি দূরে নয় যেদিন দারিদ্র্য সত্যি সত্যি জাদুঘরে ঠাঁই নেবে।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কল্পনা কর এবং তার পেছনে দৌড়াও। মানুষের ক্ষমতার সীমা পরিসীমা নেই। আমরা ক্ষমতা ব্যবহার করতে জানি না বলে এখনো দোকানদার আর কেরানি রয়ে গেছি। প্রযুক্তির কারণে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান যুগের তরুণ সমাজ অনেক শক্তিশালী। তরুণদেরকে সুপারম্যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুপারম্যান তোমার ভেতরেই লুকিয়ে রয়েছে। একে আবিষ্কার করার দায়িত্ব তোমাকেই নিতে হবে।
দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এমএ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন নোবেল জয়ী ড. ইউনূস সুহূদ-চট্টগ্রামের সভাপতি প্রফেসর সিকান্দার খান, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন।
