আনন্দবাজার’র প্রতিবেদন

হাসিনা সরকারের জনপ্রিয়তা তলানিতে

আপডেট : ২০ জুন ২০১৩, ২২:৫৪
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের জনপ্রিয়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে বলে মন্তব্য করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার প্রত্রিকা। সাম্প্রতিক সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থি মেয়রদের ভরাডুবির পরিপ্রেক্ষিতে এ মন্তব্য করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশে কি বদল, প্রশ্ন তুলে দিল ৪ শহরের ভোট’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সদ্য সমাপ্ত চার সিটি নির্বাচনের ফলাফলের মূল্যায়নে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে একথা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্নীতি, অপশাসন ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি থেকে মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কেবল যে বিরোধীরাই বিরোধিতা করছেন তা নয়, দেশের মধ্যে একটা জনরোষও তৈরি হয়েছে। রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল এই চারটি শহরেই মুখ থুবড়ে পড়ার পর হাসিনা সরকারের সামনে অগ্নিপরীক্ষা ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। কিন্তু ভোটের নির্ধারিত সময় এসে গেলেও নির্বাচন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। নীরব নির্বাচন কমিশনও। বিএনপি-জামায়াত জোটের অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা সিটির নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছে আওয়ামী লীগ। কারণ এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি সে দেশের রাজনীতিতে একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিল। এবার কি তাহলে বাংলাদেশেও পরিবর্তন? তবে আওয়ামী লীগের দাবি বিরোধীদের সাম্প্রদায়িক প্রচারের মোকাবেলা ঐক্যবদ্ধভাবে না করতে পারার কারণেই এই হার। তাদের আশা, বর্তমানের দুর্বলতাগুলো সাধারণ নির্বাচনে মুছে ফেলা সম্ভব হবে। অন্যদিকে বিএনপি পক্ষ মনে করছে, সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে জনতার এই রায়। সরকারের সমালোচকরা বলছেন, পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে বুঝেই মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতীয়তাবাদের আবেগকে সামনে নিয়ে এসে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। একাত্তরের ঘাতকদের ফাঁসির দাবিকে কেন্দ্র করে শাহবাগের উত্তাল আন্দোলনও যে দেশের মূল সমস্যাগুলো থেকে মানুষের মনকে সরিয়ে রাখতে পারেনি তার প্রমাণ চার শহরের নির্বাচনের ফল। তিস্তা বা স্থলসীমান্ত চুক্তি রূপায়ণে ভারতের অপারগতাকেও জনরোষের জন্য দায়ী করছেন সরকারের একটা মহল। এ ব্যাপারে নয়াদিল্লির সাফ কথা, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি কোন দিকে যাবে তা ভারতের বিদেশনীতির উপর নির্ভর করে না। সাউথ ব্লকের পরামর্শ, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর নামমাত্র বা বিনা সুদে যে বিপুল ঋণ এবং অনুদান বাংলাদেশ সরকারকে দেয়া হয়েছিল তার সদ্ব্যবহার করা হোক। সে দেশের অবকাঠামো তাহলে অনেকটাই বদলে যাবে। কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়ন তো দূরে থাক গোটা দেশে চলছে প্রবল বিদ্যুত্ সমস্যা। বিএনপির পক্ষ থেকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সরাসরি হাসিনার পরিবার এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের দিকে। বিশ্বব্যাংকও এই দুর্নীতি নিয়ে একটি রিপোর্ট তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা ছাড়তে রাজি নন শেখ হাসিনা। অন্যদিকে বিএনপির অভিযোগ আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীর একটাই প্রার্থনা, বরফ গলাতে দুপক্ষ আলোচনায় বসুক। অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হওয়ায় হারের মধ্যেও হাতে অস্ত্র পেয়েছে আওয়ামী লীগ। তাদের যুক্তি, নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব এটাই তার প্রমাণ।