সাম্প্রতিক নির্বাচনের আগের নির্বাচনে মাত্র ৪৬ হাজার ৭৯৬ ভোট পেয়ে সিটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন শওকত হোসেন হিরন। এবার তিনি ভোট পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৭৪১টি। গত নির্বাচনের চেয়ে ২০ হাজার বেশি ভোট পেয়েও হিরন মেয়র নির্বাচিত না হওয়ার অন্যতম কারণ বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত একক প্রার্থী দেয়া। তখন নির্বাচনে হিরনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু পেয়েছিলেন ৪৬ হাজার ২০৮ ভোট। ঐ নির্বাচনে আহসান হাবিব কামাল পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ৪১৬ ভোট। এবায়দুল হক চান পেয়েছিলেন ১৯ হাজার ৬২৬ ভোট। ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা ৪ জনের তিনজনই ছিলেন বিএনপি ঘরানার। তাই এক লাখ ৪৩ হাজার ভোটার ভোট দিলেও ঐ নির্বাচনের ফলাফলে আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনের বিজয় নিশ্চিত হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের তখন এডভোকেট এনায়েত পীর খান বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও তিনি ভোট পেয়েছিলেন মাত্র ২ হাজার ১১৪টি।
বিএনপি’র ভোট প্রায় সমান চার ভাগে বিভক্ত হওয়ার সুযোগে হিরন সহজ জয় পেয়ে যান। এবারের নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতির নানান নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে বৈরী পরিবেশে নির্বাচন করেও হিরন তার ব্যক্তিগত ইমেজে দলের ভোটার ২০ হাজার বাড়িয়েছেন নিজের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ দিয়ে। প্রায় ৫ বছরের মেয়র পদে হিরন দায়িত্ব পালনকালে আধুনিক মহানগরী গড়ার রূপকার হিসাবে সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। এ সময়কালে তিনি প্রাচ্যের ভেনিস বলে খ্যাত বরিশালকে তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করার সাফল্যে নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলেন। তরুণ প্রজন্ম তাকে ভোট দিয়ে কাজের মূল্যায়ন করেছিলেন। কিন্তু রাজনীতির বৈরী পরিবেশে হিরনের সেই আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরে ১৫ জুন ফলাফল ঘোষণার পর। কারণ গত নির্বাচনের চেয়ে ২০ হাজার ভোট বেশি পেয়েছেন হিরন। কিন্তু একশটি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাত্র ১৩টি কেন্দ্রে হিরন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আহসান হাবিব কামালের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। আর বাকি ৮৭ কেন্দ্রের সর্বত্রই আহসান হাবিব কামালের আনারস প্রতীক বিজয়ী হয়ে হিরনের পরাজয় নিশ্চিত করে দেয়। গত নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃতীয় স্থানে থাকা আহসান হাবিব কামাল ২৬ হাজার ভোটের পরিবর্তে এবার বিএনপি একক প্রার্থী হয়ে ভোট পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৭৫১টি।
