কারখানা মালিকদেরই দায়ী করলো বিজিএমইএ

আপডেট : ২০ জুন ২০১৩, ২২:৫৫
রানা প্লাজায় ধস ও শ্রমিক নিহতের ঘটনায় সরাসরি গার্মেন্টস কারখানার মালিকদেরই দায়ী করেছে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ গঠিত তদন্ত কমিটি। দেশের প্রচলিত আইন অনুয়ায়ী সংশ্লিষ্ট মালিকদের শাস্তিরও সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রথম কোন ঘটনায় বিজিএমইএর তদন্তে মালিক পক্ষকে সরাসরি দায়ী করে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা, কল-কারখানা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেও- যারা ভবনের উপরে জেনারেটর স্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন- আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে। দায়ী করা হয়েছে ভবন নির্মাণের অনুমতি প্রদানকারী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকেও (রাজউক)। বিজিএমইএ’র তদন্তে ওই ভবনের কাঠামোতে ত্রুটি পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় দেখা যায়, ভবনের পিলারের ভার বহনের সক্ষমতা ছিল না। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল প্রকৌশলী তদন্তে বিজিএমইএকে সহায়তা করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কমিটির একজন সদস্য ইত্তেফাককে জানান, রানা প্লাজায় ফাটল দেখার পর গার্মেন্টস মালিকদের কারখানা সাময়িক বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। কিন্তু মালিক পক্ষ তা শোনেনি। তারা বিজিএমইএ’র নির্দেশ উপেক্ষা করেছে। এ জন্য তাদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তির জন্য তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে। সূত্র জানায়, ধসে পড়া রানা প্লাজার নয় তলা ভবনের তিন থেকে আট তলা পর্যন্ত পাঁচটি গার্মেন্টস কারখানা ছিল। এগুলো হলো নিউ ওয়েভ বটমস লি:, নিউ ওয়েভ স্টাইল, ফ্যান্টম অ্যাপারেল, ফ্যান্টম ট্যাক লি:ও ইথার টেক্স লি:। গত ২৪ এপ্রিলের ওই দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১২৯ জন শ্রমিক প্রাণ হারায় যা কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের গার্মেন্টস খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। ঘটনার পর পরই রানা প্লাজায় অবস্থিত গার্মেন্টসের মালিকদের গ্রেফতার করা হয়। তারা এখন জেলহাজতে রয়েছেন। গ্রেফতার করা হয় ভবনের মালিক সোহেল রানাকেও। রানা প্লাজা ধসের এক সপ্তাহের মধ্যে বিজিএমইএ তদন্ত কমিটি করার ঘোষণা দেয়। বলা হয় ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। কিন্তু প্রতিবেদন তৈরি করতে প্রায় দুই মাস সময় নেয় তারা। এর কারণ হিসেবে ওই সদস্য বলেন, আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে রানা প্লাজায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর। এছাড়া কাঠামা ও মাটি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে করতে গিয়ে একটু বেশি সময় নিতে হয়েছে। তিনি জানান, বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি দেশে এলে আগামী সপ্তাহের যে কোন দিন এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি। সদস্যরা হলেন বিজিএমইএ’র পরিচালক সৈয়দ সাদেক আহমেদ, ফেরদৌস পারভেজ, মো. নাসির, নাসির উদ্দিন, বিজিএমইএ’র সচিব মোস্তাফিজুর রহমান, বিজিএমইএ’র শ্রমিক ওয়েলফেয়ার বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আহাদ আলী আনসারি, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি লাভলী ইয়াসমিন এবং বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। প্রসঙ্গত, এর আগে গত নভেম্বর মাসে তাজরীন ফ্যাশন্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিজিএমইএ’র তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের মালিক দেলোয়ার হোসেনকে বাঁচানোর পরোক্ষ চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বিজিএমইএ।