বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ধারাবাহিকভাবে কমে আসলেও দক্ষিণ এশিয়াসহ অন্যান্য অঞ্চলে তা তেমন কমছে না। সমপ্রতি বিশ্বব্যাংক ‘গ্লোবাল মনিটরিং রিপোর্ট’ শিরোনামে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক এবং ইউরোপ অঞ্চলের দারিদ্র্য দ্রুত কমছে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এ হার উল্লেখযোগ্য হারে কমছে না। বিশ্বব্যাংক ওই রিপোর্টে মূলত সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দারিদ্র্যতার হার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯০ সালে এ অঞ্চলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ছিলো ৬১ কোটি ৭০ লাখ। ২০০৫ সালে ৫৯ কোটি ৮৩ লাখ এবং ২০০৮ সালে তা ৫৭ কোটি সাত লাখে দাঁড়ায়। পূর্ব এশিয়া এবং প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোতে ১৯৯০ সালে অতি দরিদ্র জনসংখ্যা ছিলো ৯২ কোটি ৬৪ লাখ। ২০১০ সালে এসে তা দাঁড়ায় ২৫ কোটি নয় লাখে। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা দাঁড়াবে সাড়ে ১১ কোটিতে। ইউরোপে ১৯৯০ সালে অতি দরিদ্র লোকের সংখ্যা ছিলো ৮৯ লাখ। ২০০৮ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ২২ লাখে। কিন্তু ২০১০ সালে তা আবার বেড়ে ৩১ লাখে উঠে যায়। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা কমে ১৯ লাখে দাঁড়াবে বলে বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে।
রিপোর্টে দেখা যায়, দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যারাবিয়ান অঞ্চলের দেশগুলো অনেক পিছিয়ে আছে। গত দুই দশকে এ দুটি অঞ্চলে অতি দরিদ্র লোকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। ১৯৯০ সালে এ দুই অঞ্চলে সাড়ে পাঁচ কোটি অতি দরিদ্র লোকের বসবাস ছিল। ২০১৫ সালে তা তিন কোটিতে দাঁড়াবে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে কিছু দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রশংসা করা হয়। এক্ষেত্রে ব্রাজিল এবং চীনের উদাহরণ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, দৈনিক একশ টাকার কম বা সোয়া মার্কিন ডলার আয়ের হিসাব ধরে অতি দারিদ্র্যতার এ হিসাব করা হয়েছে।
