গল্প নয় সত্যি

অন্যরকম ছবির গল্প

আপডেট : ২১ জুন ২০১৩, ১৯:৩৩
আপনি কি কোনো অফিসে চাকরি করেন? যদি করে থাকেন তাহলে আপনার চারপাশে ভালো করে একবার তাকিয়ে দেখুন তো। বলুন তো, অফিসের এই জায়গা থেকে যদি একের পর এক চারপাশের দৃশ্যের ছবি তুলতে থাকেন তাহলে তা কি আদৌ কারও মনে কোনো আগ্রহের সৃষ্টি করবে? কিন্তু আপনার এই অফিসটাই যদি হতো ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩৭,০০০ ফুট উপরে ভেসে বেড়ানো কোনো কক্ষ! তাহলে নিশ্চয়ই দেখার মতো এবং দেখানোর মতো অনেক ছবিও আপনি তুলতে পারতেন। আর ঠিক এই কাজটি করেই সম্প্রতি দারুণভাবে প্রশংসিত হয়েছেন অন্যরকম ছবির কারিগর হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া করিম নাফাতনি। পেশায় এয়ারবাস বিমানের এই পাইলট নানা সময়ে তার অফিস অর্থাত্ বিমানের ককপিট থেকেই নানাসময়ে তুলেছেন মনোমুগ্ধকর একাধিক ছবি। আর সেই সাথে যোগ হয়েছে দুবাইয়ের উঁচু সব বিল্ডিং থেকে শহরের দৃশ্যের নান্দনিক আরও কিছু ছবি। সবমিলিয়ে চেনা জগতের বাইরে যেন অচেনা এক উচ্চতা থেকে পৃথিবীকে দেখার চোখ খুলে দিয়েছে করিন নাফাতনির এইসব ছবি। ইতোমধ্যে নিজের ওয়েবসাইট আর জনপ্রিয় ছবি শেয়ারিং ওয়েবসাইট ফাইভ হান্ড্রে পিএক্স ডট কমে দেওয়া এইসব ছবি রাতারাতি ভিন্ন এক খ্যাতি এনে দিয়েছে করিম নাফাতনিকেও। মূলত এয়ারবাস এ থ্রিটুজিরো’র ককপিট থেকে তোলা এইসব ছবির অধিকাংশতেই স্থান পেয়েছে উপর থেকে দেখা দুবাই ও অন্যান্য শহরের নানা দৃশ্য। সেই সাথে নানা সময়ে তাতে বাড়তি মাত্র যোগ করেছে মেঘের উপর লুকিয়ে থাকা আকাশের সাথে সূর্যের লুকোচুরি কিংবা সূর্যাস্তের মতো মোহনীয় সব দৃশ্য। করিম জানান, ২০০৭ সালে পেশাদার পাইলট হিসেবে যোগ দেবার পর থেকেই ছবি তোলার নেশা পেয়ে বসে তাকে। বিশেষ করে অনেকটা উঁচু থেকে দেখা পৃথিবীর রূপ করিমকে এতোটাই মোহিত করে যে, বিমান যাত্রা শুরু করার সময় ব্যক্তিগত দু’একটা প্রয়োজনের কথা মাঝে মাঝে ভুল হলেও কখনো সাথে করে নাইকনের ডি থ্রি হান্ড্রেড ক্যামেরাটি সাথে নিতে ভুল হতো না। এমনকি একটানা বহুদিন ফ্লাইট না থাকলে কিংবা বিরতি থাকলেও উঁচু বিল্ডিং থেকে ছবি তুলে নিজের শখ মেটাতেন করিম। আর এই শখের ষোলআনা পূরণ হয় যখন সহকারী পাইলট থেকে মূল পাইলটের দায়িত্ব পেয়ে করিমের মতে ককপিটের সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থান হিসেব বাঁ-দিকে বসার সুযোগ মেলে তার। করিম নাফাতনির তোলা মনোমুগ্ধকর এই ছবিগুলো একনজর দেখতে চাইলে আপনিও ঢুঁ মেরে আসতে পারেন www.500px.com/GostRidr বা www.knxposures.com ঠিকানার ওয়েবসাইট দুটি থেকে।