টিকফা এপিঠ ওপিঠ

আপডেট : ২১ জুন ২০১৩, ১৯:৩৭
বহুপক্ষীয় অর্থনৈতিক বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র একটি অনন্য পরাশক্তি। দেশটি শুধু বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সাথে শত শত চুক্তি করেছে। নতুন নতুন চুক্তি করতে বিভিন্ন দেশ ও জোটের সাথে আলোচনা করছে। বিরোধী শিবিরের মতে চাপ প্রয়োগ করছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ রূপরেখা চুক্তি (টিফা) এমনই একটি ব্যবস্থা। ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভের অফিসের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ৪২টি দেশ এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, সেন্ট্রাল এশিয়া ও আশিয়ানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের সাথে ৬টি চুক্তি করেছে। ভারতসহ কয়েকটি দেশের সাথে এই চুক্তির নাম ভিন্ন হলেও লক্ষ্য একই। তা হলো দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক বৃদ্ধি করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা। বাংলাদেশের সাথেও এ চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে উভয় দেশ ২০০২ সাল থেকে আলোচনা শুরু করে। তখন নাম ছিল টিফা। বিএনপি-জামায়াত জোট চুক্তিটি চূড়ান্ত করলেও শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর করেনি। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাটে-বলে হয়নি। বর্তমান সরকারের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে তত্পর থেকেছে। নাম পাল্টে দিয়েছে টিকফা বা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা রূপরেখা চুক্তি। এই ‘সহযোগিতা’ শব্দটি ব্যবহার করে চুক্তির উদ্দেশ্য জনসমক্ষে স্পষ্ট করা হয়েছে। গত এক দশকে এ ব্যাপারে ঢাকা ও ওয়াশিংটনে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কয়েক ডজন বৈঠক হয়েছে। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অধিকাংশ দেশের সাথেই এ চুক্তি করেছে। ভুটান ও বাংলাদেশ ছাড়া সার্কভুক্ত অপর ছয়টি দেশের সাথেই তাদের এ চুক্তি আছে। আশিয়ানভুক্ত ১০টি দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ব্রুনাই-এর সাথে টিফা আছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের পুরোনো মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ শিল্পোন্নত দেশগুলোর সাথে এ চুক্তি করেনি। দরকারও নেই। প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে থেকেই তাদের সাথে গভীর বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের টার্গেট উদীয়মান অর্থনীতিগুলো, যাদের সাথে শুল্ক ও বাণিজ্য বিষয়ক সাধারণ চুক্তি (গ্যাট) আলোচনার সময় বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক তেমন গভীর ছিল না। নতুন পার্টনারদের সাথে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক দৃঢ় করার মাধ্যমে অর্থনীতির গতি বৃদ্ধি বা প্রেসিডেন্ট ওবামার ভাষায় আমেরিকানদের বিশ্বব্যাপী কর্মের সংস্থান করতে তাদের এ বিরামহীন প্রচেষ্টা। গাছ বেশি ছোট থাকলে গরু-ছাগলে খেয়ে ফেলার ভয় থাকে। আবার বেশি বড় হলে সিডর-আইলা আঘাত হানে। তাই আরও বড় হওয়ার চেষ্টার চেয়ে বর্তমান অবস্থাটা ধরে রাখার জন্য বেশি তত্পর থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা তাই। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি ছিল বিশ্ব জিডিপি’র ২৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ তাদের আয়ত্তে। দেশটির জিডিপি’র পরিমাণ ১৫ হাজার ৯৪ বিলিয়ন ডলার। এ বিশাল অর্থনীতিকে সঠিকভাবে পরিচালিত করা একটি মহাযজ্ঞই বটে। ২০০৮ সালের মন্দার আঘাত স্বাভাবিকভাবেই প্রথম লাগে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর। ইউরোপেও আঘাত হেনেছে। গ্রীস, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, ইটালি, পর্তুগালসহ ইউরোজোনের কয়েকটি দেশ এখনও মন্দা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রে মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তারপরও এর নেতিবাচক প্রভাব বাজার, উত্পাদন ও শাসন ব্যবস্থাকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। সার্বভৌম ঋণ বৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে ওবামা প্রশাসনকে সরকারি ব্যয় হ্রাসসহ দীর্ঘমেয়াদি কৃচ্ছ্র কর্মসূচি নিতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই এই মন্দা থেকে শিক্ষা নিয়েছে ও নিচ্ছে। যেমনটা নিয়েছিল ১৯৩০ সালের মহামন্দার পর। তারা ১৯৩৫ সাল থেকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি করার ওপর জোর দেয়। তখন এটি তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। তাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেনের সাথে মিলে গ্যাট এবং ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অর্গানাইজেশন প্রতিষ্ঠা করে। গ্যাটের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান বাণিজ্য বাধাগুলো দূর করতে সমর্থ হয়। উন্নত প্রযুক্তি ও সামর্থ্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভারী শিল্পজাত পণ্যের বিশ্ববাজার দখল করে নেয়। ব্রিটেন, জাপান, জার্মানীসহ কয়েকটি শিল্পোন্নত দেশও তাদের শিল্পপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করে। এর ফলে এসব অর্থনীতিতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হয়। পুরোনো কৌশল অনুযায়ী অর্থনীতিকে কণ্টকাকীর্ণ করতে যুক্তরাষ্ট্র এবারও বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ নেবে এমনটা ধরে নেয়া স্বাভাবিক। সেগুলো জানতে বিশ্বকে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য আরেকটি বিরক্তিকর পরিসংখ্যান হচ্ছে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি উত্তরোত্তর বাড়ছে। ১৯৭৫ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র আর উদ্বৃত্ত বাণিজ্যের মুখ দেখেনি। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির একটি ভালো দিক হচ্ছে অবাধ বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাধা আরোপ না করা। দেশটি গ্যাট আলোচনার সময়ই ধাপে ধাপে দেশীয় বাজার উন্মুক্ত করে, যা ১৯৯৫ সালে সৃষ্ট বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার অন্যতম নীতিতে পরিণত হয়। সাম্প্রতিক মন্দার সময়ও যুক্তরাষ্ট্র সেই নীতি থেকে সরে আসেনি। শুল্ক ও অশুল্ক বাধা আরোপ করে অবাধ আমদানি বাধাগ্রস্ত করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো, চীন, ভারত, ব্রাজিল, মেক্সিকোসহ উদীয়মান অর্থনীতিগুলো প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দেশীয় ভোক্তা চাহিদা পূরণে অভ্যন্তরীণ উত্পাদন বৃদ্ধি ও পণ্য বহুমুখী করেছে। এতে তারা সফলও হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সেই পথে হাঁটেনি। তাই তারা বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে চুক্তি করছে। গত দেড় দশকে বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পাদিত যুক্তরাষ্ট্রের টিফার উদ্দেশ্য প্রায় অভিন্ন। নাম যাই হোক লক্ষ্যে কোনো পরিবর্তন নেই। ২০০০ সালে নাইজেরিয়া, ২০০২ সালে শ্রীলঙ্কা, ২০০৩ সালে পাকিস্তান এবং ২০১১ সালে নেপালের সাথে করা চুক্তিগুলো পরীক্ষা করে দেখা যায়, এগুলোতে ১৫ থেকে ১৭টি প্রস্তাবনা এবং ৭ থেকে ১০টি ধারা আছে। প্রতিটি চুক্তিতেই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতিমালা প্রতিপালনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, এই চুক্তির ফলে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, শ্রমমান, মেধাস্বত্ব অধিকারসহ বাণিজ্যকে প্রভাবিত করে এমন সব বিষয়ে এককভাবে কোনোকিছু চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। চুক্তিতে নিজ নিজ দেশের শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকের স্বার্থরক্ষার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি আছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাউন্সিল গঠনের নির্দেশনা আছে। মন্ত্রী পর্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত এ কাউন্সিল বছরে অন্তত একবার বৈঠকে মিলিত হবে। আর আছে কোনো চুক্তির কোনো ধারা কোনো পক্ষের অভ্যন্তরীণ আইন, অধিকার ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতার সাথে সাংঘর্ষিক হলে তা বাতিল হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারা হচ্ছে কোনো পক্ষ চুক্তি অব্যাহত রাখতে না চাইলে ৬ মাসের নোটিস দিয়ে ইতি টানতে পারবে। পাকিস্তান চুক্তি করতে গিয়ে একটু বেশি সাবধানতা অবলম্বন করেছে। ২০০১ সালে শুরু হওয়া ডব্লিউটিও’র “দোহা রাউন্ড”-এর মূল লক্ষ্য কৃষিপণ্য উত্পাদন ও রফতানিতে ভর্তুকি হ্রাস এবং আমদানি শুল্ক ব্যাপকভাবে কমিয়ে অবাধ বিশ্ববাজার নিশ্চিত করা। এ ঘোষণার প্রতিফলন পড়েছে ২০০৩ সালে করা যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান টিফায়। বাড়তি হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিবিড় শ্রমমান অনুসরণকে উত্সাহিত করার কথা বলা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিও’র প্রথম সম্মেলনে শ্রমমান নির্ধারণ করার জন্য আইএলওই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হিসেবে মেনে নেয়া হয়। এটি ছিল উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য একটি বিজয়। কারণ, ঐতিহাসিকভাবেই আইএলও কিছুটা আপোষমনা প্রতিষ্ঠান। শিশুশ্রম বন্ধে খড়গহস্ত হওয়ার চেয়ে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাকেই সংস্থাটি প্রাধান্য দেয়। শ্রমমান নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সংস্থাটি উন্নয়নশীল বিশ্বের সামাজিক বাস্তবতাকে মূল্য দেয়, যা উন্নত দেশগুলোর অপছন্দ। পাকিস্তান তাই বিষয়টি চুক্তিবদ্ধ করেছে। পাকিস্তানের সাথে চুক্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে বেসরকারি খাতের অবদানের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এটি একটি ভালো দিক, যা ভারতের সাথে চুক্তিতেও এত বিশদভাবে নেই। সব চুক্তিতেই টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় একে অপরকে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে টিকফা নিয়ে সরকার অতি সতর্কতা দেখিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে বিরোধী দল মানেই হচ্ছে সরকারের ভালো-মন্দ সব কাজে ঢালাওভাবে বিরোধিতা করা। কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা ছাড়া এবং ভিন্ন পথ বাতলে না দিয়ে ‘মানি না’ বলার মধ্যেই তারা বিজয় খুঁজে পায়। টিকফার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বাম ঘরানার নেতা-বুদ্ধিজীবীদের আদর্শই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা। টিকফার ক্ষেত্রেও তাদের প্রবল প্রতিবাদ অব্যাহত আছে। তারা অবশ্য কিছু কারণ উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশের মিডিয়া ও নাগরিক সমাজ বিশেষায়িত জ্ঞানের ধার ধারেন না। যে কোনো বিষয়ে অনর্গল বিশেষজ্ঞ মতামত দিতে পারেন। যার প্রতিফলন দেখা যায় টক-শোগুলোতে। ফলে মিডিয়ার বৃহত্তর অঙ্গন থেকে যারা শিক্ষা গ্রহণ করতে চায় বা বিষয়ের গভীরে যেতে আগ্রহী হয় তারা বিমুখ হয়। অনেক ক্ষেত্রে ক্রোধের উদ্রেক হয়। ক্রোধের বশবর্তী হলে স্মৃতির বিভ্রম হয়, বুদ্ধি লোপ পায় এবং এক সময় প্রণাশ ঘটে-পবিত্র গীতার এ বাণীটি তখন ভুলে যেতে বাধ্য হয়। টিকফা নিয়ে এত ভয়, আশঙ্কা ও সন্দেহ ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে কোনো পর্যায়ে আলাপ-আলোচনাতে সবাই টিকফাকে জড়াতে পছন্দ করে। সদ্যসফরকারী যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শারমেনকেও একই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে যে, তারা কি টিকফা না হলে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করবে? যুক্তরাষ্ট্রের অন্য সব প্রতিনিধির মতো ওয়েন্ডিও বলেছেন দুটি পৃথক বিষয়। টিকফা নিয়ে একটা জুজুর ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এটি সাপ না উপকারী কেঁচো, সাপ হলে বিষধর না ডোরা কেউ তা জানতে চায় না। তাই চিলে কান নিয়েছে বলে চিলের পিছনে ছোটার লোকের অভাব হয় না। সরকারের ওপর অকারণ আস্থাহীনতার ফল এটাই। পররাষ্ট্র দফতরের কর্তাব্যক্তিদের টিকফা বিষয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে কথা বলা, সন্দেহের চাহনি আর বুদ্ধিজীবী ভাব প্রকাশও মিডিয়া ও নাগরিক সমাজের সন্দেহকে উস্কে দিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অবশ্য টিকফার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে যাচ্ছে। চুক্তির কোনো কোনো ধারা ও প্রস্তাবনা মিডিয়ায় প্রকাশ করে তার ব্যাখ্যা দিয়েছে, যাতে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়। এটাই হওয়া উচিত। টিকফা নিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের বিপদের আশঙ্কার কথা ব্যাপকভাবে প্রচার হলেও চুক্তিরত ৪৮টি দেশ ও সংস্থার কোথাও এ নিয়ে কোনো বিপত্তির কথা এ পর্যন্ত শোনা যায়নি। টিকফা নিয়ে অস্পষ্টতা দূর করা এবং ভিন্ন মতামত নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। অবশ্য এজন্য প্রচুর হোমওয়ার্ক দরকার। চুক্তির কোন শব্দটির কী কী ব্যাখ্যা করে অপরপক্ষ কী সুবিধা নিতে পারে তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। এ চুক্তির ফলে আমাদের শ্রম আইন প্রয়োগে কোনো বাধা হবে কিনা, মেধাস্বত্ব অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে বাংলাদেশের রফতানি সামর্থ্য কমে যাবে কিনা, ডব্লিউটিও নীতিতে দেয়া সুবিধাগুলো ভোগ করতে গিয়ে কী কী চ্যালেঞ্জ আসতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আকর্ষণে কোনো বাধা তৈরি হবে কিনা, তাদের কোনো পণ্য আমদানি করতে আমরা বাধ্য হবো কিনা এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে। টিফাভুক্ত অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করতে হবে। এগুলোর জন্য অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি গবেষণা টিম গঠন করা যেতে পারে। যারা টিকফার এপিঠ-ওপিঠ বিশ্লেষণ করে দেশের সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে চুক্তির প্রস্তাবনা ও ধারা সম্পাদনা করবে। এগুলো গতানুগতিক আমলাতান্ত্রিক পন্থায় সম্ভব নয়। একনিষ্ঠ ও সর্বশেষ জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের দিয়ে করাতে হবে। তেমন ব্যক্তি সরকারকে খুঁজে নিতে হবে। পরিকল্পিত ও কার্যকরভাবে অগ্রসর হলে এবং সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা হলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে টিকফা না হলেও ২০১৪ সালে চুক্তি হওয়ার পথ উন্মুক্ত হবে। তখন টিকফা আশঙ্কা নয়, আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিবে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ সম্পদের মালিকের সাথে সম্পর্ক গভীর করার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।