বাতিল হতে পারে কনফেডারেশন্স কাপ!

আপডেট : ২১ জুন ২০১৩, ২০:৪৭
সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে ব্রাজিল সরকারের জন্য। রাজপথে আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে এখন অনেকটাই দিশেহারা হয়েছে তারা। আর পরিস্থিতি এমন যে, বাতিলও হয়ে যেতে পারে কনফেডারেশন্স কাপ। এমনটাই জানিয়েছে ব্রাজিলের মূল ধারার কয়েকটি গণমাধ্যম। যদিও এমন বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ফুটবল বিশ্বের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কনফেডারেশন্স কাপের শুরু থেকেই আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়ানোয় টুর্নামেন্ট শুরু থেকেই বেশ সংকটের মুখে আয়োজক কমিটি। ব্রাজিলের রেডিও সিবিএন ও এস্তাদিও সাও পাওলো পত্রিকা জানিয়েছে, এই টুর্নামেন্টটি তো বটেই, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বাতিল হতে পারে বিশ্বকাপও। সিবিএন নিজেদের ওয়েবসাইটে শিরোনামে বলছে, ‘কনফেডারেশন্স কাপ বাতিল হলে ব্রাজিলের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চাইবে ফিফা!’ ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে টুর্নমেন্ট বাতিলের কোন পরিকল্পনাই নেই তাদের। সংবাদ সংস্থা এপিকে ফিফা বলে, ‘ফিফা কিংবা এলওসি (স্থানীয় আয়োজক কমিটি) কারোরই এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্ট বাতিলের কোন রকম ইচ্ছা নেই।’ অন্যদিকে এস্তাদিও জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন এতোটাই বাজে অবস্থা ধারণ করেছে যে, যেকোন সময় ফিফা আয়োজক কমিটির সাথে বৈঠকে বসতে পারে। আর তারা কোন সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে প্রয়োজনে বাতিল হতে পারে কনফেডারেশন কাপ। ধারণা করা হচ্ছে গত বৃহস্পতিবার প্রায় দশ লাখের বেশি লোক ব্রাজিলের শহরগুলোর রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। সরকারি হিসেব অনুসারে গত দুই দশকের মধ্যে এটাই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় আন্দোলন। এরই মধ্যে দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ালো এই আন্দোলন। প্রায় ৮০টি শহরে একযোগে চলছে এই আন্দোলন। যেসব শহরে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সেসব স্থানেও বিক্ষোভ করছে প্রায় তিন লাখ মানুষ। গোলমালটা বাধে এই টুর্নামেন্টগুলো নিয়েই। আটটি দলের অংশগ্রহণে চলমান ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ দিয়ে শুরু হল, এরপর ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপ। আর ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত হবে ক্রীড়াবিশ্বের মহোত্সব অলিম্পিক। সব মিলিয়ে দেশটির খরচ হবে মোট ২৬০ লাখ ডলার। দেশটির নিজেদের কোষাগার থেকে এই অর্থ পাওয়া সম্ভব নয়। বিশাল এই ব্যয়ভার বহন করতে তাই বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম, দেখা দিচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি। করের পরিমাণও বেড়ে যাওয়ার কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম হতাশা ও দুর্ভোগ। আর সাথে দুর্নীতিযুক্ত হওয়ায় নাগরিকদের হতাশা ক্রোধে রূপ নিয়েছে। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। সাও পাওলোতে বৃহস্পতিবার রাতে ১৮ বছর বয়সী একজনের মৃত্যু ঘটেছে। সমস্যার গুরুত্ব বুঝে দেশটির সভাপতি দিলমা রৌসেফ জাপানে তার সরকারি সফর বাতিল করেছেন। আর এই যখন অবস্থা তখন ফুটবলাররাই বা কিভাবে এর থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখতে পারেন। স্পেনের কিছু গণমাধ্যম জানাচ্ছে, স্প্যানিশ ফুটবলারদের হোটলে নাকি হানা দিয়েছিল ডাকাতরা। আর জেরার্ড পিকেসহ ছয়জন খেলোয়াড়ের টাকা-পয়সা খোয়া গেছে রিফের হোটেল থেকে। গত রবিবার উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর চুরির ব্যাপারটা প্রথম বুঝতে পারে স্পেনের ফুটবলাররা। এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোন অভিযোগ জানায়নি স্পেন দল। তবে গণমাধ্যমে ঘটনা প্রকাশ হবার পর থেকেই তদন্ত শুরু করেছে ব্রাজিলিয়ান পুলিশ। স্বাগতিক দল ব্রাজিলেও আছে এমন সমস্যা। ডাকাতির শিকার হয়েছেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষকের স্ত্রী সুজানা ওয়ার্নার।