বাংলার লোকসাহিত্যে বেশ কিছু কথা আছে, যা কবিতার ছন্দে বলা হয়— এগুলো যে এত প্রয়োজনীয় তা সংসদ চলাকালে বোঝা যায়। আমাদের সংসদ সদস্যরা তাঁদের বক্তৃতায় শব্দ চয়ন, কণ্ঠস্বরের ওঠা-নামার মাধ্যমে সে সুরের ঢেউ সৃষ্টি না করায় রূঢ় আচরণ বলে প্রতিভাত হয়। কথায় বলে—কথার আছে শতেক বানী যদি কথা কইতে জানি। এসব বিবেচনায় নিলে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহাশয়ের বক্তব্য রূঢ় বাস্তব এবং মনে আঘাত লাগার মতো হলেও কেউ ক্ষিপ্ত হন না, বরঞ্চ মিষ্টি হাসি হাসেন।
গত ৯-৬-১৩ তারিখে সংসদের পরিবেশ ছিল অতি চমত্কার। প্রত্যেকেই সত্য ভাষণ দিয়েছেন। কিন্তু উগ্র স্বরে না বলায় সকলেরই হূদয়গ্রাহ্য হয়েছে। বগুড়ার সাংসদ তাঁর বক্তৃতার এক জায়গায় জিয়াউর রহমান সাহেবের স্বাধীনতার ঘোষণা সম্বন্ধে যে সঠিক বক্তব্যটি দিলেন তা এযাবত্ কোনো বিএনপি নেতা দেননি। তাই কোনো হট্টগোল হয়নি। নিখাদ সত্যটা প্রকাশিত হওয়ার পথ উন্মুক্ত থাকতে হবে। আমি মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ছিলাম। বাংলাদেশের ভেতরে বিভিন্ন ঘটনার চাক্ষুস সাক্ষী। জিয়াউর রহমান সাহেব বঙ্গবন্ধুর নামেই দ্বিতীয় দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা প্রচার করেন।
মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে অবকাঠামোর যে বর্ণনা তা যেন বাংলাদেশ ভূগোলেরই পাঠদান। অতি চমত্কার। কোনো বাড়তি ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে কথা নেই। কাউকে আঘাত নেই। বিএনপির সময় কিছু হয়ে থাকলে আমরা আরো এগিয়ে যেতাম। বিএনপি সত্য মেনে নিয়েছে। এটাই তো সংসদীয় গণতন্ত্র।
দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহাশয়ের বাচনভঙ্গি এতই চমত্কার যে, কাউকে কঠিন সত্য কথাটি বললেও রাগ করে সংসদ ছেড়ে যাওয়ার মতো মনে হয় না। এটাই বক্তৃতার কারুকার্য। তাঁর বক্তব্যের রস হলো— সত্য কথা বলতে কেন কহ যে সত্য কথা যায় না বলা সহজে। কিন্তু বাকচাতুর্যের জন্য কেউ রাগান্বিতও হন না।
মাননীয় স্পিকারের কার্যক্রমে আনন্দাশ্রু বহে আমার চোখে। তাঁর এই ক’দিনের কার্যক্রমে যে সাংঘর্ষিক পরিবেশ দূর হয়েছে তাতে মনে হয় সংসদ-লক্ষ্মী বুঝি সংসদে প্রবেশ করেছেন।
ঢাকা
