আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীকে ঘিরেই মূল প্রচারণা

আপডেট : ২১ জুন ২০১৩, ২২:৩৪
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। তবে প্রচারণা চলছে মেয়র পদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোট প্রার্থীকে ঘিরেই। উভয় দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী ফলাফল নিজ দলের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছেন ও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। বসে নেই দুই জোটের দুই মেয়র প্রার্থীর রাজনৈতিক দলের কেন্দ ীয় নেতারাও। ইতিমধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী ছাড়াও সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে এলাকার সব রাস্তাঘাট ও অলিগলি। বেলা ২টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলছে প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে মাইকিং। মেয়র প্রার্থী বিএনপি সমর্থিত অধ্যাপক এমএ মান্নানকে সঙ্গে নিয়ে তার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়কারী সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকার। অপরদিকে মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থিত অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানের সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে যোগাযোগ রাখছেন নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়কারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আকম মোজাম্মেল হক ও সদস্য সচিব জাহিদ আহসান রাসেল এমপিসহ কেন্দ ীয় নেতারা। তারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন এবং গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন তারা। এছাড়া আওয়ামী লীগ, বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও দল বেঁধে প্রচারণা চালাচ্ছেন পুরোদমে। টানা ১৮ বছর টঙ্গী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও মেয়র অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানকে নির্বাচনে পরাজিত করতে পরিবর্তনের শ্লোগান তুলেছেন বিএনপি সমর্থিত সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক এমএ মান্নান। আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান ভোটের লড়াইয়ের অতীতে টঙ্গী পৌরসভা নির্বাচনে বার বার জয়ী হয়েছেন। সেটাই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অধ্যাপক এমএ মান্নানের। তাই তিনি পরিবর্তনের শ্লোগান তুলছেন। অপরদিকে আজমত উল্লাহ খান অতীতে মেয়র থাকাকালে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজের কথা উল্লেখ করে সেগুলো অব্যাহত রাখতে আবারো তাকে নির্বাচিত করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অধ্যাপক এমএ মান্নান ভোটারদের বলছেন, একজনকে অনেকবার একই পদে দেখেছেন। এবার পরিবর্তন করুন। আমাকে বিজয়ী করলে আমি নগরবাসীকে আধুনিক নগর উপহার দেব। নাগরিকদের সকল চাওয়া পাওয়া পূরণ করবো। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে আজমত-মান্নানের ভোটের লড়াই ততই জমে উঠেছে। এই দুই প্রার্থীর পক্ষেই নিজ নিজ দল ও জোটের নেতাকর্মীরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমে বিরামহীন প্রচারণা চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দল সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে আজমত উল্লাহ খানের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপি ও ১৮ দল বলছে, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে দেশের মানুষজন অতিষ্ঠ। তাই ক্ষমতার সকল পর্যায় থেকে তাদেরকে উত্খাত করে মেয়র পদে অধ্যাপক এমএ মান্নানকে বিজয়ী করতে হবে। কোথায় আছেন জাহাঙ্গীর? এদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ১৪ দল সমর্থিত আজমত উল্লাহ খানের সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীরের নিজ মুখ থেকে বা তার সমর্থক কোন নেতাকর্মীর কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত মঙ্গলবার এ ঘোষণা আসার পর অনেকটা অজ্ঞাতবাসে চলে গেছেন জাহাঙ্গীর। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তার দুটি মোবাইল ফোন ওইদিন থেকেই বন্ধ পাওয়া যায়। তার কর্মী- সমর্থকরাও তার সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এতে তার সমর্থক নেতাকর্মীদের মধ্যে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা প্রচারিত হলেও তার প্রার্থিতা বহাল রয়েছে। নির্বাচনের ব্যালট পেপারে তার নাম ও প্রতীক থাকবে। তার পক্ষের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জাহাঙ্গীরের প্রতীক ‘আনারস’ এর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রকাশ্যে না এলেও বিভিন্ন উপায়ে তারা এই প্রচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে জাহাঙ্গীর আলমের ভোগড়া বাসন সড়ক এলাকার বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, তার পরিবারের সদস্যরা কেউ সেখানে নেই। বাসার কাজের লোকেরা কেউ বলতে পারছে না জাহাঙ্গীর কোথায় আছেন। তার ব্যবহূত গাড়িটিও গ্যারেজে রয়েছে। তার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ছাড়াও মিডিয়ার লোকজন বাসায় আসা-যাওয়া করছে। তার এই ‘নিখোঁজ’ হওয়া নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তবে তিনি তার কর্মী সমর্থকদের প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। আজমত উল্লাহ ও মান্নানের গণসংযোগ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী ১৪ দল সমর্থিত অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক এমএ মান্নান গতকাল শুক্রবারও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান কর্মী সমর্থকদের নিয়ে তার দোয়াত কলম প্রতীকের পক্ষে টঙ্গী মিল গেট, মুন্নু নগর, কুনিয়া, বড়বাড়ি, হায়দরাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা ও প্রচারপত্র বিলি করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাহান, আলী হোসেন মাষ্টার, আমজাদ হোসেন, কাশেম মাতাব্বর, মুজিবুর রহমান, সামসুল হক, মুনসুর আলম মৃধা, শহীদুল ইসলাম প্রমুখ। বিকালে আজমত উল্লাহ খান জয়দেবপুর বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন। এছাড়া ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের নেতৃত্বে ৫০-৬০ সদস্যের একটি দল আজমত উল্লাহর দোয়াত কলমের পক্ষে গতকাল ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। অধ্যাপক এমএ মান্নান দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে তার টেলিভিশন প্রতীকের পক্ষে টঙ্গীর মিল গেট, দেওড়াবন্দর মার্কেট, জাহাঙ্গীরের দোকান, মুদাফা মাদ্রাসা, বাদাম, তিলারগাতি, গুটিয়া, সাতাইশ চৌরাস্তা, শরীফ মার্কেট, খরতৈল, মুনসুর মার্কেট, আউচপাড়া, খা পাড়া, কলেজ রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রহমান হাবিব, রফিক সিকদার, সালাহ উদ্দিন সরকার, শাহেনশাহ আলম, আরিফ হাওলাদার প্রমুখ।