খালেদা জিয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য রুচিবর্জিত :বিএনপি

আপডেট : ২১ জুন ২০১৩, ২৩:১২
বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার ধর্মকর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনাচরণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ‘রুচিবর্জিত’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেছেন, বৃহস্পতিবার গণভবনে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতা সম্পর্কে যেসব কথা বলেছেন তা ‘দুঃখজনক’ ও ‘অসৌজন্যমূলক’। এছাড়া সিঙ্গাপুরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের সঙ্গে বৈঠক এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাক্ষাতের খবরকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলেও দাবি করেছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, তিনি এ ধরনের কথা বলে অভ্যস্ত। ‘রাজনৈতিক সভ্যতা’ বলতে যা বোঝায় তা প্রধানমন্ত্রীর থাকলে বিরোধীদলের নেতা সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন, তা বলতেন না। তার বক্তব্যের মধ্যে রুচিবোধের ন্যূনতম লেশ নেই। একাধিক পত্রিকায় সিঙ্গাপুরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে এরশাদের বৈঠক ও তারেক রহমানের সাক্ষাতের খবরের বিষয়ে রিজভী বলেন, এটা ভিত্তিহীন ও সত্যের অপলাপ। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এসব সংবাদ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্যই এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। রিজভী বলেন, এরশাদের সঙ্গে কেন সিঙ্গাপুরে বৈঠক করতে হবে? বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে বৈঠক হতে পারে। সেখানে গোপন বৈঠকের কী আছে? তিনি বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তারেক রহমান সম্পর্কে ‘অসত্য সংবাদ’ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিত্সা শেষে গত মঙ্গলবার রাতে দেশে ফেরেন এরশাদ। তিনি ১০ জুন সিঙ্গাপুর যান। আর খালেদা জিয়া একই হাসপাতালের এখনও চিকিত্সাধীন। আগামী ২৪ জুন তার দেশে ফেরার কথা। ‘সরকার গায়ের জোরে প্রহসনের নির্বাচন করতে চায়’ এদিকে গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অগ্নিসেনা সংসদ আয়োজিত ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আগামী জাতীয় নির্বাচন’ শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, সরকার জনদাবি উপেক্ষা করে নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করবে না বলে বলছে। তারা গায়ের জোরে একটি প্রহসনের নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু এটা করা হলে দেশে সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞ হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়ার ব্যাপারে আদালতের প্রসঙ্গ আনা হয়েছিল। আগামীতে যদি রাস্তা প্রশস্থের জন্য কারও বাড়ি ভেঙ্গে ফেলার কথা বলেন আদালত, সেটা ঠিক হবে কিনা? যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বর্তমান সরকারের মধ্যে পাগলের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। হাইকোর্ট একবার একজনকে ‘রং হেডেড’ বলেছিল। আর বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মানসিক সুস্থতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। প্রধানমন্ত্রী সংসদে বিরোধীদলীয় নেতাকে পাকিস্তানে চলে যাবার কথা বলে উর্দুতে বক্তৃতা দেন। অর্থমন্ত্রী ও আইন প্রতিমন্ত্রীর সমালোচনা করে আলাল বলেন, একজন মন্ত্রী আছেন, কথায় কথায় শুধু ‘রাবিশ রাবিশ’ বলেন; আরেকজন আছেন যার মাথায় টাক, তিনি সব বেআইনি কথা বলেন। বিএনপির সাবেক এমপি হেলেন জেরিন খান বলেন, শেখ মুজিব চারটি সংবাদপত্র রেখে অন্য সব পত্রিকা বন্ধ করে যেমন টিকে থাকতে পারেননি, তেমনি শেখ হাসিনাও দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি ও আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে টিকে থাকতে পারবেন না। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। তিনি আগামী নির্বাচন অবাধ করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে আরও ক্ষমতাবান করার ফর্মুলা দেন।