নগরীর রূপাতলীতে অবস্থিত শেফা ডায়গনস্টিক সেন্টার নামক নামসর্বস্ব একটি ডায়াগনস্টিক ল্যাবে আরিফুর রহমান নামে এক চিকিত্সকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার প্রতিষ্ঠানের মালিক শাহিন ও তার সহযোগীরা ঐ চিকিত্সককে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
নিহত চিকিত্সক আরিফের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায়। শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর তিনি ঐ ডায়াগনস্টিক ল্যাবে প্র্যাকটিস করতেন। প্রাইভেট প্রাকটিসের পাশাপাশি তিনি ঐ ল্যাবেই রাত্রি যাপন করতেন। জানা যায়, ডা. আরিফ মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। গত এক মাস ধরে পরিবারের সাথে তার কোন যোগাযোগ ছিল না বলে নিহত আরিফের পরিবার সূত্রে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে মাদক সেবন করার পর শুক্রবার ডায়াগনস্টিক ল্যাবের এক নারীকর্মীকে কেন্দ্র করে ক্লিনিক মালিক শাহিনের সাথে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে শাহিন ল্যাবের লোকজন ও ভাড়াটে মাস্তান নিয়ে ডাক্তার আরিফকে মারধর করে। নির্যাতনে ডা. আরিফ জ্ঞান হারালে ক্লিনিক মালিক শাহীন, শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র দিদার, ডাক্তার আরিফের সহযোগী ইব্রাহিম খলিলসহ সকলে মিলে তাকে একটি টেম্পোতে করে শেরেবাংলা মেডিক্যালে নিয়ে যায়। সেখানে মাদক সেবনে চিকিত্সক আরিফ মারা গেছেন বলে শেফা ডায়াগনস্টিকের মালিক উল্লেখ করে। পরে সাংবাদিক ও পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হলে শাহিন, ইব্রাহিম খলিল ও দিদার পালিয়ে যায়। পুলিশ শেফা ল্যাব থেকে মিরাজ ও বাবু নামে দুই কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে। ডায়াগনস্টিক ল্যাবটি পুলিশ তালাবদ্ধ করে দিয়েছে। কোতয়ালী পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মূল হোতা শাহিনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর চিকিত্সকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঐ ল্যাবে নতুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দালালরা রোগী ধরে এনে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে টাকা হাতিয়ে নিতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।
