গার্মেন্টস পল্লী নির্মাণ ও ঝুঁকিমুক্ত কারখানা গড়তে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

আপডেট : ২২ জুন ২০১৩, ২০:২৭
মুন্সিগঞ্জের বাউশিয়া মৌজায় গার্মেন্টস পল্লী নির্মাণের জন্য ৫৩১ একর জমি বরাদ্দের চলমান কার্যক্রম ত্বরান্বিতকরণ, ভূমি উন্নয়ন, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ ও গ্যাস-বিদ্যুত্সহ অন্যান্য ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ রাখার অনুরোধ করেছে এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)। প্রস্তাবিত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটের পর অর্থমন্ত্রীর নিকট বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট আব্দুস সালাম মুর্শেদী। এতে আরো উল্লেখ করা হয়, সমপ্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি দুর্ঘটনা বিশেষ করে তাজরিন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড এবং সাভার ট্রাজেডির কারণে শিল্পকে নিরাপদ, ঝুঁকিমুক্ত ও কমপ্লায়েন্ট করার লক্ষ্যে এ মুহূর্তে সরকারের নীতি সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার বিশেষ প্রয়োজন। কারখানাগুলোকে উন্নীতকরণ, স্থানান্তর ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য বাজেটে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদানের জন্য ন্যূনতম ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। কারখানাগুলোকে বিদ্যুত্ সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও ঝুঁকিমু্ক্ত করার স্বার্থে এলইডি লাইট ও অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত পণ্য আমদানী শুল্ক শূন্য হার করা প্রয়োজন। বাজেটে ইটিপি স্থাপনের জন্য ২শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, উক্ত তহবিল থেকে বস্ত্র ও পোশাক খাতের জন্য ২টি সেন্ট্রাল ইটিপি স্থাপনের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখারও আহ্বান জানানো হয়। তাছাড়া ২শ’ কোটি টাকার তহবিল হতে ব্যক্তি উদ্যোগে ইটিপি স্থাপনে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার প্রস্তাব করেছে ইএবি। প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থ আইন-২০১৩ এর মাধ্যমে কাস্টমস এ্যাক্ট ১৯৬৯-এর ধারা ৯১ সংশোধনের মাধ্যমে বন্ডেড ওয়্যার হাউসকে তদারকির দায়িত্ব ‘‘শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট’’কে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে দেয়া হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পের তদারকির জন্য বর্তমানে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট বিদ্যমান আছে। সেহেতু অন্য কোন সংস্থাকে এই ধরনের দায়িত্ব দেয়া সমীচীন নয়। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের চলমান কার্যক্রম তদারকি করার দায়িত্ব একাধিক সংস্থাকে প্রদান করা হলে জটিলতা বৃদ্ধি পাবে এবং রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ধারা ১১৬ “এ’’ মাধ্যমে কমিশনার অব ট্যাকস-এর অনুমতিক্রমে ডেপুটি কমিশনারকে যে কোন ব্যক্তির সম্পদ ‘সিজ’ করার অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। ইপিবি মনে করে, নতুন করে এ ধরনের ক্ষমতা অর্পণ করায় করদাতা বা কোন ব্যক্তিকে হয়রানির সম্ভাবনা দেখা দিবে এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখিত ১১৬ ‘‘এ’’ ধারাটি বাতিল করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে গার্মেন্টস শিল্পে প্রণোদনা স্কিমটি আরও ৩ বছরের জন্য সম্প্রসারণ করার এবং ২৫৯২ কোটি টাকার ঘোষিত বরাদ্দ থেকে প্রণোদনা প্রদানের জন্য প্রস্তাব করেছে ইএবি।