এখনকার ব্যস্ততা কী নিয়ে, আর আসছে ঈদের জন্য কী কী করলেন?
এই ব্যস্ততা নিয়ে আমার একটা ছোট্ট সমস্যা আছে। আমি নাটক-টেলিফিল্মের নাম খুব একটা মনে রাখতে পারি না। অনেক চেষ্টা করেও এটা আমি সম্ভব করতে পারলাম না। এমনিতে ঈদের তো কাজ করছি, এরইমধ্যে বেশ কিছু কাজ করেছি।
অন্য প্রসঙ্গে আসি। এখন আমাদের বেশ কিছু নির্মাতা ও চ্যানেল ভারতীয় নাটকের আদলে নাটক নির্মাণ করছেন। এই বিষয়ে কী বলবেন?
প্রথমত আমি এই বিষয়টা সম্পর্কে অবগত নই। দ্বিতীয়ত কেউ ভারতীয় নাটকের আদলে যদি কাজ করেন তাহলে এতে আমি খারাপ কিছু দেখছি না। ভারত এরইমধ্যে প্রমাণিত যে, ক্যামেরা-সাউন্ড থেকে শুরু করে প্রোডাকশনের বিভিন্ন দিক দিয়ে তারা মানসম্মত কাজ করে। তাই তাদেরকে ফলো করে যদি আমাদের দেশের লোকেরা ভালো কিছু নিয়ে আসতে পারে, এতে খারাপ কিছু নেই মনে হয়। সবারই উচিত নিত্যনতুন কাজের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়ানো। তারা যদি ফলো করে দেশে দর্শক গ্রহণযোগ্যতা পায় তাহলে অবশ্যই অ্যাপ্রিশিয়েট করার মতো বিষয়। আর যেহেতু নির্মাতারা বানাচ্ছে, চ্যানেল সেটা অনএয়ার করছে, নিশ্চয়ই দর্শক গ্রহণযোগ্যতার কথা ভেবেই করা হচ্ছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি ভারতীয় নাটক পছন্দ করি না। তাদের প্রেজেন্টেশন আমার কাছে ভালো লাগে না। তাদের নাটকের মধ্যে অনেক নাটকীয়তা থাকে। আমাদের নাটক হয় জীবনধর্মী। তাদের সবকিছুই দেখতে কৃত্রিম মনে হয়।
আপনি তো চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। এই প্রসঙ্গে কিছু বলুন, পাশাপাশি নতুন চলচ্চিত্র নিয়ে কিছু ভাবছেন কি?
আমার ৪ নম্বর ছবির ডাবিং চলছে। এখনও একদিনের ডাবিং বাকি আছে। ৩ বছর ধরেই চলছে এই ছবির কাজ। জানি না আর কতদিন চলবে। প্রতি বছরই মনে হয় এবার মুক্তি পাবে, কিন্তু আর পায় না। তাই এবারও বলতে পারছি না আসলে ছবিটি কবে মুক্তি পাবে। তবে বেশকিছু ভারতীয় পরিচালকের সঙ্গে চলচ্চিত্র নিয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু এখনও ফাইনাল কিছুই নয়। দুয়েকবার কথা হয়েছে মাত্র। দেখি, যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে হয়তো পরবর্তী আলোচনাতেই ফাইনাল করা যাবে।
তারকাদের সিডিউল ফাঁসানোর বিষয়ে কী বলবেন? এই অভিযোগ কিন্তু আপনার বেলায়ও ছিল।
আমরা শিল্পীরা ডাকাত না। আমরাও মানুষ। এটা সবার মাথায় রাখা উচিত। আর দশটা হিউম্যান বিংয়ের মতো আমরাও শারীরিকভাবে অসুস্থ হই, জ্বর উঠে, দুর্ঘটনার কবলে পড়ি, নানা ঝামেলা আমাদেরও পোহাতে হয়। কারও বিরুদ্ধে যদি সিডিউল ফাঁসানোর অভিযোগ উঠে আর সেটা যদি খবরে প্রকাশ হয়, আমি প্রথমেই সন্দেহ প্রকাশ করব সেই প্রকাশিত সংবাদটা আসলে কতটুকু সত্য, যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত। একটা ঘটনার পেছনের কিছুই আমরা কেউ জানতে চাই না। আমরা যখন একটা কাজ নিই তখন অনেক কিছু ভেবেচিন্তেই নিই। যেমন ওই দিন অন্য কাউকে সিডিউল দেওয়া আছে কি না, ওইদিন আমার ব্যক্তিগত কোনো কাজ আছে কি না ইত্যাদি। যখন নিজের অপারগতা থাকে তখন না বলে দিই। সিডিউল ফাঁসাতে কেউ চায় না। এমনকি এই ফাঁসানো শব্দটা আমার মোটেও পছন্দ না। গতকাল একজন বলছে চ্যানেল হয়ে গেছে ৩০টা কিন্তু আর্টিস্ট নেই... সেক্ষেত্রে আমরা কী করব। সেই জায়গা থেকে আমাদেরকে এ ধরনের ব্লেইম করাটা আমি মোটেও সাপোর্ট করি না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানে ফ্যামিলির মতো করে কাজ করা দরকার, যার নজির একেবারেই শূন্য। আমার বিরুদ্ধে যিনি ফাঁসানোর অভিযোগ তুলেছেন তার সঙ্গে অনেক কাজ আমি করেছি। যাই হোক এই প্রসঙ্গে আর নাইবা গেলাম। সিডিউল ফাঁসালে আমাদেরই ক্ষতি, পরবর্তীতে হাতে কাজ কম আসবে। ক্যারিয়ারের ক্ষতি। এটা আমরা বুঝি।
