আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, কারাগারগুলোতে বিচারাধীন মামলার আসামির সংখ্যাই বেশি। এসব মামলার আসামিদের জামিন দিলেও বিপদ না দিলেও বিপদ। বিচারতো হচ্ছে না তাকে কতদিন আটকে রাখা যাবে? আবার গুরুতর অপরাধের মামলার আসামিকে জামিন দিলে সেটাও অনেকেই সহজভাবে নিচ্ছেন না। তিনি বলেন, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বিচারের চাইতে অবিচার বেশি হয়। এজন্য ফৌজদারি কার্যবিধিতে সংশোধনীর প্রস্তাব অবিচার রোধের পাশাপাশি মামলাজট কমাবে। ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮’র সংশোধনীর উপর আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রাজধানীর রুপসী বাংলা হোটেলে গতকাল শনিবার ইউএনডিপির সহযোগিতায় আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এই সভার আয়োজন করে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হকের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এএসএম জহিরুল হক, ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর পলিন ট্যামেসিস। সভায় বিচারক, পুলিশ, পাবলিক প্রসিকিউটর, আইনজীবী ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশরা শতবর্ষ আগে ফৌজদারি কার্যবিধি আইন করে গিয়েছিলো। এরপর এ আইনের বড় কোন পরিবর্তন হয়নি। আমরা আমাদের দেশের উপযোগী করে এই আইনটি বদলে ফেলতে চাচ্ছি। সবার মতামত নিয়ে আগামী সংসদে এই আইন পাস করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। ব্যারিস্টার শফিক বলেন, অভিযোগ উঠেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দায়েরকৃত মামলার ৮০ ভাগই ভুয়া। মিথ্যা অভিযোগে এ সব মামলা দায়ের করা হয়।
আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারী নির্যাতনের ৮০-৯০ ভাগ মামলাই ভুয়া। সংসারে একটু খিটিমিটি দেখা দিলেই মামলা করে দেয়। তাই এগুলো নিষ্পত্তি করতে হবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতিতে। তিনি বলেন, নানা উপায়ে দেশে মিথ্যা মামলা হয়। এসব মিথ্যা মামলা বন্ধ করতে হলে মিথ্যা মামলা দায়েরকারীকে সরাসরি শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস করতে হবে।
এটর্নি জেনারেল মুসলিম পারিবারিক আইন সংশোধন করে মেয়ে সন্তানকেও বাবার সম্পত্তির পূর্ণ উত্তরাধিকারি হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, কোনো পরিবারে শুধু মেয়ে সন্তান থাকলেও সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ছেলে হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।
