‘জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলের’ অর্থে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে বাঁধ নির্মাণে সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় করে মাটি কাটা হচ্ছে। বন বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারিদের বাধা উপেক্ষা করে বাঁধ নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন গাছ পরিষ্কার করে বাগানের জমি থেকেই এক্সাভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বাঁধের দু’পাশ ভরাট করছে। এ বাঁধ নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে বনাঞ্চলের কয়েক হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১০ সালে ‘চরমানিকা-চরইসলাম ও চরমোন্তাজ ক্রসড্যাম নির্মাণের মাধ্যমে ভূমি পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একই বছরের ৩০ নভেম্বর জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড সাত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য দরপত্র আহবান শেষে ২০১১ সালে ২৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সফিউদ্দিন জানান, প্রকল্পটি এলাকার উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও জানান, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় গত বছরেই নদীর বাঁধের সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য পাঁচ কিলোমিটার বনাঞ্চলের গাছ অপসারণের ছাড়পত্র দিয়েছে। সংযোগ সড়কের জন্য মাত্র ১০ হাজার গাছ কাটা পড়বে। কিন্তু বনবিভাগ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র অনুযায়ী কাজ করছে না। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটছে।
এ বিষয়ে বন বিভাগের চরবেষ্টিন বিট অফিসার শেখর চন্দ্র দাস জানান, তারা এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের কোন ধরনের ছাড়পত্র পাননি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নির্মাণের সাথে জড়িত লোকজন বেশ কয়েকবার গাছ কাটার উদ্যোগ নিলে তারা বাধা দিয়েছেন। এসব ঘটনায় তারা রাঙ্গাবালী থানায় এ যাবত্ তিনটি মামলাও করেছেন। গত ৪০-৫০ বছর ধরে গড়ে তোলা এ দু’টো বনে বর্তমানে কয়েক হাজার বানর, হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী রয়েছে। বনাঞ্চল উজাড় হয়ে গেলে বন্য প্রাণীদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে।
