প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল দাবি আবারো নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে নির্বাচন হবে না, উল্টো বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ দেশবাসীকে দীর্ঘমেয়াদী দুর্ভোগে পড়তে হবে। তাই পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও আগামী দশম জাতীয় নির্বাচনও সেভাবেই হবে। সেই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবেই হবে। জনগণের ভোটের অধিকার ও ক্ষমতায়নও নিশ্চিত হবে। কেননা জনগণের ভোট চুরির নিয়ত আওয়ামী লীগের নেই। ধ্বংসাত্মক রাজনীতি ছেড়ে গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসার জন্য তিনি আবারও বিরোধী দলীয় নেতার প্রতি আহ্বান জানান।
গতকাল শনিবার গণভবনে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিগত সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুই দলের রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের ভোগান্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে সরে আসতে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি আবারো আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নয়, বিগত নির্বাচনগুলো প্রমাণ করেছে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। বিরোধী দলীয় নেতা তত্ত্বাবধায়ক, তত্ত্বাবধায়ক করছেন। একবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও রাজনীতিবিদদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। তাকে এবং আমাকে জেলে পাঠিয়েছে। আরেকবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে তাকে আবারও জেলে যেতে হবে না এ নিশ্চয়তা তিনি কোথায় পেয়েছেন? তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে নির্বাচন দেবে, তারই বা নিশ্চয়তা কী? গতবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে তিন মাসের কথা বলে দুই বছর পার করেছে। এবার এলে তিন বছর নয়, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা রোজ কেয়ামত পর্যন্ত সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার ফতোয়া দেবেন। তারাও কেয়ামত পর্যন্তই ক্ষমতায় থাকতে চাইবেন। তিনি বলেন, সদ্য সমাপ্ত চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। এরপরও বিএনপি কীভাবে বলে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না? এ কথা বলে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করাটাই তাদের চরিত্র।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অতীতে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি (বিরোধী দলীয় নেতা) যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন প্রতিটি নির্বাচনে কারচুপি করেছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারিও মাগুরা মার্কা নির্বাচন করেছেন। তারা কেবল জনগণের টাকা নয়, ভোটও চুরি করেছে। এ কারণেই আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন করেছিল। আর সেই আন্দোলনে বিএনপিকে এক মাসের মধ্যে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল। বর্তমান সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির মত ভোটচোরদের হাত থেকে জনগণের ভোটের অধিকার আওয়ামী লীগ সরকারই ফিরিয়ে দিয়েছে। বর্তমান সরকারের সময় অনুষ্ঠিত কোন একটি নির্বাচন নিয়েও কেউ টু শব্দ পর্যন্ত করতে পারেনি। সব নির্বাচনের মতো আগামী জাতীয় নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে। একমাত্র আওয়ামী লীগেরই সে সাহস আছে। আওয়ামী লীগই পারবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে।
বিরোধী দলীয় নেতা আবারও সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে কোনো ষড়যন্ত্র করেন কী-না সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগেরবার সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরেই তিনি ৪৮ ঘন্টার আলটিমেটাম দিলেন। বললেন, আমি না-কি পালাবারও পথ পাবো না। তারপরই হেফাজতকে নিয়ে জ্বালাও-পোড়াও করেছেন।
তিনি রংপুরের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে গত নির্বাচনে জেলার কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করায় রংপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান। তিনি বলেন, রংপুরবাসীর প্রতি অভিনন্দন যে তারা এখন নৌকার (আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক) দিকেও ফিরেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর তার সভাপতিত্বে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রুদ্বদ্বার মতবিনিময় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের রংপুুর জেলার সাংগঠনিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু। এ সময় জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগ নেতারা বক্তব্য রাখেন। সভা পরিচালনা করেন দলের উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস।
বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে কাজী জাফরউল্লাহ, সতীশ চন্দ্র রায়, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, এইচ এন আশিকুর রহমান, ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, একেএম এনামুল হক শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
