দেহে ভিটামিন-সি এর ঘাটতি পূরণে এক সময় বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা মাল্টা খাওয়ার পরামর্শ দিতেন। দাঁতের ক্ষয়রোধেও দন্ত চিকিত্সকরা রোগীকে বলতেন মাল্টা খেতে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা মুখ ও ঠোঁটের ঘা দূরীকরণে এবং চামড়ার উজ্জ্বলতাসহ নানা কারণে ভিটামিন সি খাওয়ার উপদেশ দিতেন। এমনকি শিশুদেরও ভিটামিন সি খাওয়ানোর কথা বলতেন চিকিত্সকরা।
সব ধরনের চিকিত্সকরা যে ফলটি খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিতেন সেই ফলটি যে বিষের আধার! মাল্টা তরতাজা রাখতে এবং হলুদ রাখার জন্য খুবই শক্তিশালী রাসায়নিক দেয়া হয়। যার ফলে এই মাল্টা খাওয়া ও বিষ খাওয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।
চিকিত্সকরা বলেন, না জেনে আগে তারা রোগীদের ফলের নামে বিষ খাওয়ার পরামর্শ দিতেন। কিন্তু ইদানিং পত্র-পত্রিকায় লেখালেখির কারণে বিষযুক্ত ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
বাদামতলী, যাত্রাবাড়ী, কাওরান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও মিরপুর ১ নম্বর ফলের আড়তে গিয়ে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের কাছে মাল্টা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা অকপটে স্বীকার করেন, রাসায়নিক দেয়ার কথা। তারা বলেন, আগে মাল্টা কয়েক মাস বাজারে বিক্রি হতো। গত কয়েক বছর ধরে মাল্টা সারা বছরই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে আগে সবুজ রংয়ের মাল্টা পাওয়া যেত। কিন্তু এখন হলুদ রংয়ের মালটায় বাজারে সয়লাব। এ মাল্টায় এক শ্রেণীর মুনাফালোভী ব্যবসায়ী কেমিক্যাল ও ফরমালিন মিশ্রিত পানিতে চুবিয়ে কিংবা স্প্রে করে গুদামে রেখে দেন। ওই মাল্টা মাসের পর মাস রেখে দিলেও পচন ধরবে না। ওই গুদাম ঘরে নেই কোন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। বদ্ধ ঘরে রেখে দেয়ায় মাল্টা হয়ে যায় ক্রিকেট বলের মতো শক্ত।
আড়তদাররা বলেন, কেমিক্যাল ও ফরমালিনের ব্যবহার প্রতিরোধে মোবাইল কোর্টের জেল জরিমানাকে তারা তোয়াক্কা করে না। এই কারণে কেমিক্যাল ও ফরমালিনের ব্যবহার সহজ হয়ে পড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দন্ত বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ডা. মজিবুর রহমান হাওলাদার জানান, দাঁতের মাড়ির প্রদাহ রোধে ও দাঁতের ক্ষয়রোধে মালটাসহ ভিটামিন “সি” জাতীয় ফল খাওয়ার পরামর্শ দিতেন তারা রোগীদের। কিন্তু এখন বাজারে সব ফলেই রাসায়নিক দেয়ায় ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন না ।
চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এমএন হুদা বলেন, মুখের ঘা (স্কার্ভি) ও ঠোঁটে ঘা এবং চামড়ার উজ্জ্বলতা নষ্ট হলে রোগীদের মালটাসহ ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় ফল খাওয়ার পরামর্শ দিতেন। কিন্তু এখন যেই পরিস্থিতি রোগীদের বলছি এই ধরনের ফল না খেতে। গাইনি ও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলছেন, যেহেতু এখন ফলে রাসায়নিক দেয়া হচ্ছে তাই তারা রোগীদের দেখেশুনে ফল কিনতে বলেন।
