সাগরে হঠাত্ ধরা পড়ছে রূপালী ইলিশের ঝাঁক

আপডেট : ২২ জুন ২০১৩, ২২:৫৬
সাগরে জেলেদের জালে হঠাত্ করে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে রূপালি ইলিশ। শুক্র ও শনিবার ভোর থেকেই বাগেরহাট কেবি বাজার মত্স্য আড়তের চত্বরে ক্রেতা ও বিক্রেতারা উত্সবমুখর পরিবেশে ইলিশ বিক্রি করছেন। সাগরগামী জেলে ও মহাজনরা ইলিশ নিয়ে এখন মহাব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। জেলেদের মুখে অনেকদিন পর ফুটে উঠেছে হাসি। পুরো মৌসুম জুড়ে এভাবে ইলিশ ধরা পড়লে গত বছরের দেনা এবার শোধ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা। বাগেরহাট শহরের কেবি বাজার মত্স্য আড়তে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ আসায় বেজায় আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন আড়তদাররা। গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক টন ইলিশ বিক্রি হয়। অন্যান্য দিনে এক পোন (৮০ পিস) ইলিশ ২০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হলেও গতকাল তা বিক্রি হয় ৭/৮ হাজার টাকা কম দরে। ছোট-বড় ইলিশ এক পোন ১০/১২ হাজার টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। হঠাত্ করে বাজারে ইলিশের ছড়াছড়ি দেখে ভোক্তাদের মুখেও হাসি ফুটে উঠেছে। সাগরে রাশি রাশি ইলিশ ধরা পড়ার খবরে অধিকাংশ জেলে মহাজনদের নিকট থেকে দাদন নিয়ে ইলিশ ধরার জাল, নৌকা, ট্রলার মেরামতের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। গত ১৫ দিন আগে থেকেই ইলিশ ধরার মৌসুম শুরু হয়। তবে জেলে ও মহাজনরা অভিযোগ করে বলছেন, ‘তারা লাখ লাখ টাকা পুঁজি খাটিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। কিন্তু ১০-১২ টি জলদস্যু বাহিনীকে তাদের নির্ধারিত চাঁদা দিতে হয়। পান থেকে চুন খসলেই দস্যুরা জেলেদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। ইলিশ আহরণ খাত থেকে প্রতিবছর সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করছে । অথচ অসহায় জেলেদের নিরাপত্তা ও দস্যু দমন নিয়ে সরকার কোনো ব্যবস্থাই নেয় না। দস্যুদের উত্পাত বন্ধ হলে দেশের বাজারে প্রচুর ইলিশ সরবরাহ করতে পারবেন বলে জেলেরা জানান। এ ব্যাপারে বাগেরহাট পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যা বলেন, ইলিশ মৌসুমে সাগরে কোস্টগার্ড ও বন বিভাগ সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। তবে এবার এই দুর্বৃত্তদের দমনে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছে।