হেফাজত ঈদের আগে কেন্দ্রীয়ভাবে কোন কর্মসূচি নেবে না

আপডেট : ২২ জুন ২০১৩, ২২:৫৭
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শবে বরাতের পর বড় ধরনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামা হচ্ছে না হেফাজতে ইসলামের। আমীর আল্ল¬ামা শাহ আহমদ শফী ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরব যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সরকার তাঁর বিদেশ যাওয়ায় বাধা না দিলে শবে বরাতের পর পরই ওমরা পালনের জন্য তার সৌদি আরব যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ১৫ দিন অবস্থানের পর রমজানের শেষের দিকে দেশে ফিরে তিনি এত্তেকাফে থাকবেন। এছাড়া অসুস্থতার কারণে সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী এখনও চট্টগ্রামের একটি ক্লিনিকে রয়েছেন। মামলার কারণে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। এসব কারণে ঈদের আগে হেফাজত কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি দিচ্ছে না বলেই সংগঠনের দায়িত্বশীলরা জানান। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি না দেয়া হলেও দেশব্যাপী ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানান তারা। কর্মসূচির ব্যাপারে দিক নির্দেশনা গ্রহণের জন্য প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে আলেম ওলামারা চট্টগ্রামে এসে আল্ল¬ামা শফীর সাথে মতবিনিময় করছেন। ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির পর এ পর্যন্ত চল্লি¬শটিরও বেশি জেলার প্রতিনিধিদের সাথে হেফাজত আমীরের বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে। হেফাজতে ইসলামের সাহিত্য ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি হারুন ইজহার শনিবার ইত্তেফাককে জানান, ঈদুল ফিতরের পর ১৩ দফা দাবির সমর্থনে বড় ধরনের কর্মসূচির জন্য হুজুর (আল্ল¬ামা শফী) আমাদের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। ওই কর্মসূচিতে আগের চেয়ে চারগুণ বেশি তৌহিদী জনতার সমাবেশ ঘটবে বলে হুজুর আশাবাদী। মুফতি হারুন আরও বলেন, কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান বার্ষিক পরীক্ষা আজ রবিবার শেষ হওয়ার পর দেশব্যাপী ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে কর্মসূচি দেয়া হবে। এটা চলবে সারা রমজান মাস জুড়ে। ঈদের পর বড় ধরনের আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবেই তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। আমীরের প্রেস সচিব মাওলানা মুনীর আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির পর হেফাজতের প্রতি সাধারণ মানুষের সহমর্মিতা ও সমর্থন অনেক বেড়েছে বলেই আল¬ামা শফী মনে করেন। মাওলানা মুনীর জানান, সমপ্রতি সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ইটালিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হেফাজতে ইসলামের শাখা গঠিত হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি দেশ থেকে শাখা গঠনের প্রস্তাব এসেছে।