মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে চিনি ছোলা পিঁয়াজ তেল

আপডেট : ২২ জুন ২০১৩, ২২:৫৮
পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে উখিয়া সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে ছোলা, চিনি, পিঁয়াজ ও ভৈজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য। চাহিদার অজুহাতে স্থানীয় চিহ্নিত পাচারকারী চক্র এসব মালামাল পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করলেও মানবিক কারণে উদ্ধার কিংবা সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা সম্ভবপর হয় না বলে বিজিবির অভিমত। শুক্রবার রাত ৩টায় সীমান্তের কাঁটাপাহাড় এলাকা দিয়ে সীমান্তের ওপারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসী ধাওয়া করে লক্ষাধিকটাকা মূল্যের ভোগ্যপণ্য লুটপাট করে নিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। উখিয়া ও তত্সংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাধীন, তুমব্রু, ঘুমধুম, বালুখালী, আনজুমানপাড়া, ফারিয়ারবিল, রহমতের বিল, কাঁটাখাল ও ধামনখালী গ্রামভিত্তিক পাচারকারী চক্রের স্থায়ী অবস্থান সীমান্ত এলাকায় হওয়ার সুবাদে চক্রটি চোরাচালানের সাথে জড়িত। গ্রামবাসী জানান, চোরাচালানি চক্র এ দেশীয় পণ্যসামগ্রী পাচারের মাধ্যমে মিয়ানমারের মন্ডু টাউন এলাকায় বসবাসরত লক্ষাধিক রোহিঙ্গার চাহিদা পূরণ করছে। আসন্ন রমজানে মিয়ানমারে চিনি, ছোলা, পিঁয়াজ ও ভোজ্যতেলের প্রচুর চাহিদা থাকার কারণে স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে হাতবদল হয়ে লাখ লাখ টাকার ভোগ্যপণ্য মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা বিজিবির সুবেদার মোঃ নূরুল ইসলাম জানান, মিয়ানমারের কাস্টম্স ইমিগ্রেশনের একজন কর্মচারী বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে চোরাই পণ্য পাচার করছে। সে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় গত শুক্রবার যাত্রীবাহী গাড়ি থেকে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের পণ্য আটক করা হয়। উক্ত চোরাচালানী পণ্য ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য উক্ত মিয়ানমারের নাগরিক বিভিন্নভাবে তদিবর চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী কাঁটাপাহাড় এলাকার একাধিক গ্রামবাসী জানান, প্রতিরাতে এলাকার কতিপয় পাচারকারী লাখ লাখ টাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সীমান্তের নাফনদী পার করে দিচ্ছে। শনিবার রাতে বিপুল পণ্য পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া করলে চোরাচালানীরা মালামাল রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গ্রামবাসী এসব মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। বালুখালীর বিজিবির সুবেদার মোজাম্মেল হক জানান, রমজানকে সামনে রেখে চোরাচালানীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী পাচারের জন্য সক্রিয় হয়ে উঠলেও তাদের করার কিছুই নেই। স্থানীয় চেয়ারম্যান গফুরউদ্দিন চৌধুরী পাচারের কথা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয়রা আন্তরিক না হলে পাচার বন্ধ করা সম্ভব নয়।