ভারতের উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও হিমাচলে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত রবিবার আকস্মিকভাবে বন্যা দেখা দেয়। বন্যায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৫৬ জন বলে সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই বন্যা মানবসৃষ্ট বলে ভারতের সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণযজ্ঞ, খনিজ সম্পদ উত্তোলন, ব্যাপক বিদ্যুত্ প্রকল্প হিমালয় অধ্যুষিত রাজ্যগুলোতে মৌসুমী বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণে ভূমিকা রেখেছে। সরকার একে ‘প্রাকৃতির উন্মত্ততা’ বলে বর্ণনা করায় সংবাদমাধ্যমে সমালোচনা করা হচ্ছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
দ্য হিন্দু পত্রিকায় বলা হয়, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এই বন্যার পেছনে আংশিক ভূমিকা রেখেছে। মানুষের বাড়াবাড়ি ও বোকামিও প্রকৃতিকে ধ্বংসাত্মক হতে সাহায্য করেছে। প্রকৃতি প্রতিশোধ নিচ্ছে।
টাইমস অব ইন্ডয়ায় বলা হয়, নদীতে বাড়াবাড়ি রকমের স্থাপনা নির্মাণসহ জলবিদ্যুত্ প্রকল্প বাড়তে থাকা এবং পাহাড় ধ্বংসও দুর্যোগ ডেকে আনছে।
দৈনিক জাগরণে বলা হয়, এই ধ্বংসাত্মক বন্যা মানবসৃষ্ট, কারণ পরিবেশ আইন লঙ্ঘন হয়েছে দশকের পর দশক ধরে। সরকারও তা হতে দিয়েছে।
বন্যায় হাজার লোক আটকা পড়েছে। তাদের উদ্ধারে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি বলে সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারের জন্য অল্প কিছু হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে বলে টাইমস অব ইন্ডয়ার খবরে বলা হয়। দ্য পাইয়োনিয়ারে বলা হয়, আশার ক্ষীণ আলো যমুনা নদীতে ‘বিলীন হয়ে যাচ্ছে’।
জি নিউজে বলা হয়, প্রধামন্ত্রী মনমোহন সিং সকলকে ‘উদারচিত্তে বন্যার্তদের সাহায্যে’ এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বাস্তুচ্যুতদের আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহায়তারও আহ্বান জানিয়েছেন।
