প্রেম করে বিয়ে করার তিনদিন পর খুন হলেন কলেজ ছাত্রী মনিরা পারভীন (২০)। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী নাসির উদ্দিনসহ দুইজনকে আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর খিলক্ষেত থানার বড়ুয়া পশ্চিমপাড়ার লাহনিয়া। শুক্রবার রাতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মনিরাকে মারধর করে অচেতন অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার তিনি মারা যান। মনিরা নিকুঞ্জ মডেল কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। একই কলেজের ছাত্র নাসিরউদ্দিন গত ১৭ জুন সবার অগোচরে তাকে বিয়ে করেন।
মনিরার বোন হাবিবা আক্তার ইভা সাংবাদিকদের জানান, মনিরা ও নাসিরের সম্পর্ক দুই বছরের। গত সোমবার সবার আগোচরে নাসির মনিরকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করেছেন। গত শুক্রবার নাসির মনিরাকে নিয়ে তার বাসায় যান। বাসায় যাওয়ার পর মনিরার শ্বশুরবাড়ির লোকজন নাসিরকে মারধর করে একটি রুমে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা মনিরার উপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি মারধরের একপর্যায়ে মনিরা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। খবর পেয়ে তারা মনিরাকে উদ্ধার করে আশিয়ানা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি ঘটলে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। গতকাল সকাল ৯টার দিকে মনিরা মারা যান।
পুলিশের হাতে আটক হবার আগে নাসির সাংবাদিকদের জানান, তিনি চলতি বছরে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। আর একই কলেজে পড়ার সুবাদে মনিরার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ অবস্থায় দুই পরিবারকে না জানিয়ে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের তিনদিন পর গত শুক্রবার সকালে তিনি মনিরাকে নিয়ে নিজের বাসায় যান। না জানিয়ে বিয়ে করায় পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা তাদের দু’জনকেই মারধর করে। মনিরার মৃত্যুর জন্য নাসির তার পরিবারের সদস্যদেরই দায়ী করেছেন।
খিলক্ষেত থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম হোসেন জানান, নাসির মনিরাকে অপহরণ করে বিয়ে করেছিলেন। এ কারণে নাসির ও তার চাচা মমতাজকে আটক করা হয়েছে। নিহতের বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
