হলিউ ড

জোডি ফস্টার

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৩, ২০:৩২
১২ বছর বয়সে জোডি অভিনয় করেছিলেন একজন যৌনকর্মীর চরিত্রে। একজন কিশোরী হিসেবে এরকম একটি সাহসী চরিত্রে অভিনয় সে বয়সেই তাকে এনে দিয়েছিল অস্কারের মনোনয়ন মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক ১৯৬২ সালের নভেম্বরের ১৯ তারিখে লস এঞ্জেলসে জন্ম নেয়া অ্যালিসিয়া ক্রিস্টিয়ান ফস্টার নামের সোনালী চুলের মেয়েটি যে একদিন হলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী জোডি ফস্টার হিসেবে পরিচিত হবে, তা কেই বা কল্পনা করতে পেরেছিল! বর্তমানে হলিউডে অভিনয়গুণে তাকে মেরিল স্ট্রিপের পরের আসনে বসানো হয়। ছোটবেলায় ভাইবোনেরা আদর করে তার নাম দিয়েছিল ‘জোডি’ এবং সেই নামেই আজ তিনি বিখ্যাত। শিশু অভিনেত্রী হিসেবে মাত্র তিনবছর বয়সে আয় করে পরিবারকে সাহায্য করেছিলেন জোডি। পাঁচ বছর বয়স থেকে নিয়মিত বিভিন্ন টিভি শোতে অভিনয় করা শুরু করেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিককার একটি সিনেমার জন্য তিনি আজও সুপরিচিত, সেটি হলো ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া বিখ্যাত এই থ্রিলারধর্মী সিনেমাটিতে মাত্র ১২ বছর বয়সে জোডি অভিনয় করেছিলেন একজন যৌনকর্মীর চরিত্রে। একজন কিশোরী হিসেবে এরকম একটি সাহসী চরিত্রে অভিনয় সে বয়সেই তাকে এনে দিয়েছিল অস্কারের মনোনয়ন। শুধু তাই নয়, ডিজনির সর্বকালের সেরা ক্লাসিক হিসেবে পরিচিত ‘ফ্রিকি ফ্রাইডে’ এবং ‘ক্যান্ডেল সু’ সিনেমা দু’টিতে কিশোরী জোডির সাবলিল অভিনয় হলিউডে আজও স্মরণ করা হয়। এরপরে ১৯৮০ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে ‘ফক্সেস’ সিনেমায় একজন উগ্র যুবতী মেয়ের ভূমিকায় তার দুর্দান্ত অভিনয় করেন। প্রথমে কিছু বি-গ্রেডের সিনেমা দিয়ে শুরু করলেও খুব অল্প সময়েই তিনি পেয়ে যান ‘দি অ্যাকিউজড’-এর মতো সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ। সিনেমাটিতে তার চরিত্রটি ছিল গণধর্ষণের শিকার পার্টি গার্ল সারাহ-এর; যে কিনা ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন। প্রতিবাদী এই নারী চরিত্রে অভিনয় জোডিকে এনে দেয় তার জীবনের প্রথম অস্কার এবং গোল্ডেন গ্লোবের শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর ট্রফি। একজন ‘স্টার’-এর স্বীকৃতি তার ভাগ্যে জোটে সর্বকালের সেরা সাইকোলজিকাল থ্রিলার সিনেমাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত ‘সাইলেন্স অফ দি ল্যাম্বস’-এর মাধ্যমে। সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯১ সালে। ব্লকবাস্টার হিট এই সিনেমাটি জিতে নেয় সে বছরের সবক’টি উল্লেখযোগ্য অস্কার। এই সিনেমার ক্ল্যারিস স্টারলিং নামের চরিত্রটির জন্য জোডি পান দ্বিতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর অস্কার। ১৯৯১ সালে ‘লিটল ম্যান টেট’ সিনেমার মধ্য দিয়ে জোডির পরিচালনার ক্যারিয়ার শুরু হয়। পরে তার পরিচালিত আরেকটি সিনেমা ‘হোম ফর দি হলিডেজ’ মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে। ১৯৯৪ সালে ‘ম্যাভেরিক’ নামের একটি ওয়েস্টার্ন কমেডি সিনেমায় জোডি অভিনয় করেন একজন আবেদনময়ী ‘কন আর্টিস্ট’ হিসেবে। ‘নেল’-এ চ্যালেঞ্জিং চরিত্রটির জন্য জোডি ৪টি অস্কারের মনোনয়ন এবং শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জিতে নেন ‘স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড’। জোডির পরবর্তী সিনেমা ছিল অভিনেতা ম্যাথিও ম্যাকনয়ীর বিপরীতে সায়েন্স ফিকশন ড্রামা ‘কন্টাক্ট’। সিনেমাটি বক্স অফিসে সুপারহিট তো হয়ই, উপরন্তু জোডিকে এনে দেয় শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর গোল্ডেন গ্লোবের মনোনয়ন। ২০০২ সালে ‘প্যানিক রুম’ সিনেমার মাধ্যমে আবারও মিডিয়ার শিরোনামে আসেন জোডি। ২০০৫ সালে অভিনীত ‘ফ্লাইট প্ল্যান’-এর মাধ্যমে। বিশ্বব্যাপী ব্লকবাস্টার হিট এই সিনেমাটির মাধ্যমে সেবার তিনি পুনরুদ্ধার করেছিলেন তার জনপ্রিয়তা। পরের বছর জোডি আরেকটি হিট সিনেমা ‘ইনসাইড ম্যান’ উপহার দিলেন তার ভক্তদের। সাফল্যের অমিয় ধারা বইতে থাকলো আরেকটি রিভেঞ্জ থ্রিলার ‘দি ব্রেভ ওয়ান’-এর মধ্য দিয়ে। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তাকে পারিশ্রমিক দেয়া হয় দেড় কোটি ডলার এবং আরও একবার তার অভিনীত সিনেমা বক্স অফিসে প্রথম অবস্থান দখল করে নেয়। শুধু তাই নয়, ‘দি ব্রেভ ওয়ান’-এর মাধ্যমে তিনি আরেকবার পেলেন গোল্ডেন গ্লোবের মনোনয়ন। লাগাতার কয়েকটি সুপারহিট থ্রিলারের পর ২০০৮ সালে জোডিকে দেখা যায় অভিনেতা জেরার্ড বাটলারের বিপরীতে কমেডিধর্মী সিনেমা ‘নিমস আইল্যান্ড’-এ। এরপর ‘কারনেজ’ সিনেমার জন্য জোডি আরও একবার পেয়ে যান গোল্ডেন গ্লোবের মনোনয়ন। ৪৬ বছরের ক্যারিয়ারে জোডি ফস্টার দু’টি অস্কারসহ তিনটি ‘বাফটা’ অ্যাওয়ার্ড, দু’টি গোল্ডেন গ্লোব এবং দু’টি ‘অ্যামি অ্যাওয়ার্ড’-এর মনোনয়নপ্রাপ্ত।