গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বরের কাল রাতে রামুর ১২টি বৌদ্ধ বিহারে দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দিলেও ‘বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রে’র ১শ’ ফুট দীর্ঘ বৌদ্ধমূর্তির বড় কোন ক্ষয়ক্ষতি করতে পারেনি। তবে পেছনের ঘরটি পুড়ে যাওয়ায় লাখ খানেক টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর পরিবর্তে সেখানে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সরকার প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে দোতলা বিশিষ্ট নতুন একটি বিহার তৈরি করে দিয়েছে। আরও প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিহারের সৌন্দর্যবর্ধনমূলক বিভিন্ন অবকাঠামো ও বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এতে সাধারণ বৌদ্ধরা খুবই খুশি।
‘বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রে’র পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ুয়া জানালেন এসব কথা। রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের অধ্যক্ষ পণ্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের বলেন, বিহার নির্মাণ নিয়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। তার নির্দেশে সেনাবাহিনী খুব সুন্দর করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বিহারগুলোর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমি তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
সরেজমিন পরিদর্শন এবং খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে রামুর ১২টি বৌদ্ধ বিহার ধ্বংস হলেও সেই ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন এখন আর নেই। সেই ধ্বংসস্তূপের উপর মাত্র ৯ মাসেই সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছে দৃষ্টিনন্দন ও সুরম্য অট্টালিকা। ফলে মাত্র পৌনে একবছরেই বদলে গেছে রামু।
সেনাবাহিনীর ১৭ প্রকৌশল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুলফিকার রহমান জানান, ১২টি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বৌদ্ধ স্থাপত্য অনুসরণ করে বিহারগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া নির্মিত বিহারের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরকালে এসব বিহার উদ্বোধন হওয়ার কথা। তবে বিহার নির্মাণ নিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কম-বেশি সকলেই খুশি হলেও বিচার নিয়ে তারা মোটেই সন্তুষ্ট নয়।
রামু কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ ঐক্য ও কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুনীল বড়ুয়া জানান, বিহারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অভিযুক্তরা অনেকে প্রকাশ্যে ঘুরলেও তাদের ধরা হচ্ছে না। তাই সুষ্ঠু বিচার না পাওয়ার আশংকা সবার মনে। রামু মৈত্রী বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ বড়ুয়া জানান, হামলার ঘটনার সঠিক বিচার না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশংকা থেকেই যায়।
