গ্রেফতার এড়াতে খুন করে মাজারে সিন্নি!

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৩, ২২:৫৭
সফলভাবে (!) ২০ টন লোহার রডভর্তি ট্রাক ছিনতাই। আর পথের কাঁটা ট্রাকচালক ও হেলপারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নদীর পানিতে ফেলে দেয়া, সে কাজটিও করা হয় নির্বিঘ্নে। আর ঝামেলামুক্তভাবে কাজগুলো করার জন্য মাজারে গিয়ে সিন্নি দেয় সড়ক ডাকাতরা। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার ৭ সড়ক ডাকাত জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানায়। গত বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতারকৃতরা হত্যা করে চালক আব্দুল মজিদ এবং হেলপার সাইদুলকে। হত্যা করে তাদের লাশ ফেলে দেয় নদীতে। শনিবার সাভার এলাকার বালুরঘাট সংলগ্ন নদী থেকে তাদের লাশ পুলিশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। উদ্ধার করা হয়েছে ২০ টন রডভর্তি ছিনতাইকৃত ট্রাক ও ডাকাতির কাজে ব্যবহূত একটি ট্রাক। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল রবিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে জানায়, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত এডিসি মশিউর রহমান ও সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ডাকাতদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে দলনেতা তাজুল ইসলাম (৫০), তার বাড়ি ভোলার লালমোহন থানার চরলক্ষ্মী। মান্নান মোল্লা (৩০) বাড়ি ভোলার রায়রাবাদ। মোহাম্মদ বাবুল (৪০), গ্রামের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন খান থানার কাইচ্যা। রাজিব খান (৩০), বাড়ি বগুড়া জেলার পুরান বগুড়া। ইসলাম বেপারী (৪২), বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার চরটিকা। মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর (৩৫), বাড়ি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী থানার ডুয়াইল। মাঈন উদ্দিন (৩০), বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার দেউলা। সংবাদ সম্মেলনে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত তাজুল ইসলাম ডাকাতদের গডফাদার। সে ডাকাতির কাজে ব্যবহূত ট্রাক ও অর্থের যোগান দেয়। ডাকাতদলের নেতা সবুজ ও রইছসহ অন্য ডাকাতরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (পশ্চিম) মশিউর রহমান জানান, ট্রাক ডাকাতি, চালক ও হেলপারকে হত্যার পর ডাকাতরা মিরপুর মাজারে গিয়ে ঐদিন সিন্নি দিয়েছিল। যাতে গ্রেফতার এড়াতে পারে। গোয়েন্দা পুলিশ অভিযানে মিরপুর মাজার রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ডাকাত রাজিব, ইসমাইল, মাঈনউদ্দিনকে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ঘটনার রাতে তারা দারুস সালাম থানাধীন গাবতলী গরুর হাটের উত্তরপাশের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের তিনটি খালি ট্রাক নিয়ে ডাকাতি করে। তারা চালক ও হেলপারকে হাত-পা-মুখ বেঁধে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। গ্রেফতারকৃতদের তথ্যমতে, ঐ রাত পৌনে একটার দিকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন পশ্চিম আগারগাঁও পিকেএসএফ ভবনের সামনে থেকে আটক করা হয় লুণ্ঠিত রডভর্তি ট্রাক। গ্রেফতার করা হয় তাজুল ইসলাম, মান্নান মোল্লা, বাবুল ও জাহাঙ্গীরকে। এডিসি জানান, গ্রেফতারকৃতরা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য। তারা কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল থেকে আগত রড, তেল, চিনিবাহী ট্রাকে ডাকাতি করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় একাধিক হত্যাসহ ডাকাতির মামলা রয়েছে।