হঠাত্ বেড়েছে অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচা

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৩, ২২:৫৮
দেশে হঠাত্ করেই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের কেনাবেচা বেড়ে গেছে! আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র কেনার আগ্রহ বাড়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে আইন-শৃংখলা বাহিনীসূত্রে জানা গেছে। তারা জানিয়েছেন, মূলত সন্ত্রাসীরাই সংগ্রহ করছেন এসব অবৈধ অস্ত্র। তবে কিছু অস্ত্র রাজনীতিকদের হাতেও যাচ্ছে। আর ক্রমাগত চাহিদা বাড়ায় সীমান্তের কমপক্ষে ২০টি পয়েন্ট দিয়ে এখন দেশে ঢুকছে এসব অবৈধ অস্ত্র। সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্রের চোরাচালান অনেক বেড়েছে বলেও তারা দাবি করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত দুই মাসে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে অন্তত ২৫টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ দশ অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছেন। গত ১০ জুন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দশটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এদের মধ্যে ৫ জনই ব্যবসায়ী। নির্বাচন সামনে রেখে তারা এসব অস্ত্র রাজধানীতে বিক্রির জন্য এনেছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে ইত্তেফাককে বলেন, ‘মাঝে মধ্যে কোন অপরাধের ঘটনা বেশি ঘটলে, সেই অনুযায়ী পুলিশ অভিযান জোরদার করে। এই অভিযানেই গত কয়েক মাসে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে বেশকিছু অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও কয়েকজন ব্যবসায়ী ধরা পড়েছে।’ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অস্ত্রের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। তিন মাস আগেও ভারতীয় একটি পিস্তল পাওয়া যেত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায়। এখন সেগুলোর কোনটির দামই ৫০ হাজার টাকার কম নয়। এদিকে গত ২২ জুন যশোরের সীমান্ত এলাকা থেকে র্যাব ২টি বিদেশি পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলিসহ দুই অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। ২১ জুন রাজধানীর রামপুরা থেকে ২টি অত্যাধুনিক (সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ) পিস্তলসহ ৩ জন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে র্যাব। একইদিন নেত্রকোনার দূর্গাপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ১টি রিভলবারসহ এক মোটরসাইকেল আরোহীকে গ্রেফতার করা হয়। আটক ব্যক্তি অবৈধ অস্ত্রটি সীমান্ত এলাকা থেকে বহন করে ঢাকায় আনছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। র্যাবসূত্রে জানা গেছে, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বেশিরভাগই আসছে সীমান্তপথ দিয়ে। দেশের সীমান্ত এলাকার নির্দিষ্ট ২০টি পয়েন্ট দিয়ে অবাধে ঢুকছে এইসব অস্ত্র। গত ১৮ জানুয়ারি মেহেরপুরের গাংনী থানার সীমান্তবর্তী সর্দারপাড়া গ্রাম থেকে র্যাব ১০টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ অস্ত্র ব্যবসায়ী ফুলসাদ মিয়াকে গ্রেফতার করে। এসব অস্ত্র ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর কাছে পাঠানোর কথা ছিল। আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীরাই এসব আগ্নেয়াস্ত্র দেশে প্রবেশ করাচ্ছে বলে জানা গেছে। র্যাবের হাতে সাম্প্রতিক সময়ে আগ্নেয়াস্ত্র আটকের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সীমান্ত পয়েন্টগুলোর মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, মেহেরপুরের গাংনী, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, নওগাঁও’র পত্নীতলা, কুমিল্লার বিবিরবাজার, চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর বিলোনিয়া, আমতলী, কক্সবাজারের টেকনাফ, চুয়াডাঙ্গা, যশোরের শার্শা, বেনাপোল, সাতক্ষীরা ও দিনাজপুরের বিরল এলাকা দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দেশে ঢুকছে। এ ব্যাপারে র্যাবের মিডিয়া এন্ড লিগ্যাল শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বেশ কয়েকটি চালান র্যাবের হাতে ধরা পড়েছে। বেশ কয়েকজন অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।’ এদিকে পুলিশ সদর দফতরসূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের প্রায় আড়াই হাজার অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছিলো। চলতি বছর এই সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে তারা আশংকা প্রকাশ করেন।