প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কেউ এ জাতির কল্যাণ করতে পারবে না। তিনি বলেন, জাতির জন্য যাদের কোনো আত্মত্যাগ নেই, যারা জেল-জুলুম ও অত্যাচার সহ্য করেনি, মানুষের জন্য কষ্ট ভোগ করেনি, তাদেরকে দিয়ে কী কল্যাণ হবে? গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এক অনির্ধারিত সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এই আলোচনায় আরও অংশ নেন দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর দুই সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ। স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে অধিবেশন শুরুর পর প্রথমেই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন তোফায়েল আহমেদ। ১ ঘন্টারও বেশি সময় বিষয়টির ওপর আলোচনা চলে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই বাঙালির ওপর যে শোষণ ও জুলুম-নির্যাতন শুরু হয়েছিল, তার প্রতিবাদেই একদিন আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল। বৃটিশদের কাছে পদানত হওয়ার দিনেই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল বাঙালিকে স্বাধীন করার জন্য। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগই বাংলাদেশকে স্বাধীনতা এনে দেয়। এরপর আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের যা অর্জন, তার সবকিছুই আওয়ামী লীগের এনে দেয়া। বাংলাদেশ নামটিও বঙ্গবন্ধুর দেয়া।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফেরার পর দেশ গঠনের কাজে হাত দেন। কিন্তু সেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা মোটেই কোনো সহজ কাজ ছিল না। কিন্তু তিনি তাঁর দক্ষতা দিয়ে খুবই অল্প সময়ে দেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। কেবলমাত্র তাঁর জীবদ্দশাতেই ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল, যা আজ পর্যন্ত আর কখনোই সম্ভব হয়নি। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ মাত্র সাড়ে ৩ বছরে এভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, এটা কেউ কল্পনাও করেনি। কিন্তু স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি এসব কিছু কখনোই মেনে নিতে পারেনি। যুদ্ধাপরাধের বিচারও বঙ্গবন্ধুই শুরু করেছিলেন। কিন্তু তিনি তা শেষ করে যেতে পারেননি। তার আগেই ঘাতকরা তাঁকে হত্যা করে। আমরা এখন যুদ্ধাপরাধের বিচার করছি। এই বিচারও সম্পন্ন হবে এবং বিচারের রায়ও কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, আমরা ২০২১ সালের জন্য একটি রূপকল্প ঘোষণা করেছি। কারণ, আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কেউ এই জাতির জন্য কল্যাণ করতে পারবে না। গত ৬৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগ দেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। এখনও দিয়ে যাচ্ছে।
