সিগারেট ও বিড়িতে বৈষম্যমূলক শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিবাদে দক্ষিণাঞ্চলের ৫ সহস্রাধিক বিড়ি শ্রমিক গতকাল রবিবার অনশন ধর্মঘট করছে। বিড়িতে শুল্কের হার কমানোসহ ৫ দফা দাবিতে সকাল থেকে নগরীর সোহেল চত্বরে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কারিকর বিড়ির ৭টি ফ্যাক্টরির শ্রমিকরা অংশ গ্রহণ করেন। অনশনরত নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা জানান, সরকার সিগারেট এর উপর শুল্ক কর বৃদ্ধি করেছে ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ আর বিড়ির উপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে ৬০ দশমিক ১৬ শতাংশ। সিগারেট মালিকদের সুবিধা দিতেই সরকার এ বিমাতাসুলভ আচরণ করে শ্রমিকদের পথে বসাতে চায় বলে অনশনকারী শ্রমিকরা অভিযোগ করেন।
আমরণ অনশন চলাকালে বক্তৃতায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বিড়ি শিল্পে বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ লাখ শ্রমিক কাজ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। সেই শ্রমিকদের ভাতে মারার জন্য বর্তমান সরকার চলতি অর্থ বছরের বাজেটে অতিমাত্রায় সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করেছে। এ শুল্কের হার না কমালে এই শিল্প বন্ধ হয়ে যাবে।
গতকাল সকাল থেকে সোহেল চত্বরে এ অনশন চলাকালীন সময়ে বিকালে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য তালুকদার মোঃ ইউনুস এসে তাদের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন ও সংসদে উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনশন ভাঙ্গান। তখন তিনি বিড়ি শ্রমিকসহ সকল শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার আন্তরিকতার পরিচয় দিবে বলে জানান।
দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত্ বিড়ি ফ্যাক্টরি কারিকর বিড়ি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ দে ইত্তেফাককে জানান, ২০০৪ সাল থেকে সিগারেট এর মূল্য কমানোর পাশাপাশি বিড়ির উপর শুল্ক বৃদ্ধির কারণে তারা ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করে ইতিমধ্যেই অমৃত ফুড প্রোডাক্ট নামের শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ক্রমেই বিড়ি শিল্পের ব্যবসায় মন্থর গতি নেমে আসায় বিড়ি শিল্প হুমকির মুখে পড়ছে।
