উচ্চ শিক্ষার জন্য নিজের স্বপ্নের গ্রাম ও আপন মানুষদের ছেড়ে আসা হূদয় ছেঁড়ার মতই কষ্টের। কিন্তু হলের বন্ধুদের সাথে কষ্টের ভাগাভগি ও ভালবাসার মাখামাখি করে এক পারিবারিক হূদ্যতা তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ.এফ রহমান হলের শিক্ষার্থীরা। হলজীবন নিয়ে কথা হচ্ছিল তাদের সাথে।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিব বলেন, ছোটবেলা থেকেই মা-বাবার নজরে বেড়ে ওঠা। তাই নিজের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়নি। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ছিল অনেক সীমাবদ্ধতা। এখন বসবাস পরিবার থেকে বহু দূরে। এখন খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে ভাবতে হয় নিজেকে। ভবিষ্যত্ ক্যারিয়ারের ভাবনাটাও বেশ গুরুত্ব পায় এ সময়। বন্ধুর সঙ্গে হলের প্রাত্যহিক জীবন উচ্ছলতার সাথেই পার করছি।
ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কিছু দিন পরেই হলে উঠি। শুরুতে মন কেমন যেন ছটফট করত। হলে একদম ভালো লাগত না। সারাক্ষণ ইচ্ছে হতো বাড়ি চলে যাই। আশায় থাকতাম কখন ছুটি হয়। যে কোনো ছুটি পেলেই বাসায় চলে যেতাম। এখন অবশ্য তেমনটা মনে হয় না। সবার সাথে ভালো সম্পর্ক হয়েছে। তাই আর কষ্ট মনে হয় না।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী বলেন, হলের জীবন মানেই লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রাণ খুলে হাসি-তামাসা আর আনলিমিটেড আড্ডা। পরীক্ষা না থাকলে তো সবার মনে খুশির জোয়ার আসে। হলের ভিতরেই চলে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা। কেউ খেলতে না চাইলে তাকে সবাই মিলে জোর করে খেলানো, জন্মদিনে খাওয়া, নতুন কিছু কিনে আনলে সে উপলক্ষে খাওয়া ইত্যাদি কাজে মেতে থাকি সারাক্ষণ।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুর দিকে সবাই চায় বন্ধুতা। একেকজন ছাত্রছাত্রী একেক জেলা থেকে আসে। অথচ প্রবল বন্ধুত্বের সুতো ঘুচিয়ে দেয় দূরত্ব। তৈরি হয় একের প্রতি অন্যের বিশ্বাসবোধ কিংবা নির্ভরশীলতা। নতুন এক জীবনের ভেলায় চড়ে ভাসতে থাকে জীবন । সেই জীবনে শুধু নীলাকাশ আর ঝলমলে রোদ, বললেন সমাজ কল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল মাহমুদ।
সাইফুল্লাহ ও ইমরান হোসেন বলেন, সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই ডাইনিং টেবিলের দিকে দৌড়। একটু দেরি হলেই কপালে জুটবে পাতিলের তলানি নতুবা হোটেলের ডাল-ভাজি। দ্রুত নাশতার পর্ব সেরে যেতে হয় ডিপার্টমেন্টে। কীভাবে যে সময়টা কেটে যায়! একলাফে দুপুর চলে আসে। ফিরে এসে কোনোরকমে বই-খাতা টেবিলে রেখে ডাইনিংয়ের উদ্দেশ্যে দৌড়। লম্বা টেবিল পাতা। ঘরজুড়ে পরিচিত গন্ধ। চিকন নলা মাছের তরকারি আর পাতলা ডাল। আহা অমৃত!
বাধাহীন জীবন। মা-বাবার কড়া শাসন নেই। পাড়াপড়শির বাঁকা চাউনি নেই। তাই হলের ছেলেরা নিজেদের মতো করে দিনযাপন করতে পারেন। এক কথায় স্বাধীন। একটা স্বাধীন জীবন। স্বপ্নময় একটা জীবন।
