অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে চট্টলাবাসীকে শিক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে নেয়ার জন্য তত্কালীন দানশীল ব্যক্তিত্ব ন্যাশনাল কংগ্রেসের সদস্য শেখ-ই-চাটগাঁম কাজেম আলী মাষ্টার বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠালগ্নে বিদ্যালয়টি চিটাগাং গ্রামার স্কুল নামে যাত্রা শুরু করলেও কাজেম আলী মাষ্টারের মৃত্যুর পর এলাকাবাসী তার নামানুসারে বিদ্যালয়ের নাম প্রদান করে। ১২৭ বছরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নানা ঝড়-ঝঞ্ঝা ডিঙিয়ে ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি একটি সফল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে। বর্তমানে বিদ্যালয় ও কলেজ শাখা মিলিয়ে ৮৬৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার যথাক্রমে ৮৩%ও ৯৬%। বিদ্যালয়টির নিজস্ব স্কাউট, বিএনসিসি, হ্যান্ডবল ও ক্রিকেট দল রয়েছে। সিজেকেএস আয়োজিত হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টে ও ইয়ং টাইগার ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয় শাখায় বিজ্ঞান, বাণিজ্য বিভাগ এবং কলেজ শাখায় বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগ চালু আছে। এই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে আছেন প্রাক্তন বিচারপতি মো:ফজলুল করিম, প্রাক্তন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবদুল্লা আল নোমান, এড. কফিল উদ্দিন, চট্টগ্রাম আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ শফিউল আলম, চট্টগ্রাম সিডি এ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, কথা সাহিত্যিক আবদুস শাকুর প্রমুখ।
আমিনুল ইসলাম
৯ম শ্রেণি, রোল-১
ফলাফলের দিক আমাদের বিদ্যালয় ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। পাশাপাশি যদি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক চর্চা, ইত্যাদি চালু করে তাহলে আমরা সবাই সবদিক দিয়ে সুশিক্ষিত হতে পারব। আমি চাই আমাদের স্কুল কর্তৃপক্ষ বিতর্ক প্রতিযোগিতা চর্চার সুযোগ করে দিবেন। যার ফলে আমরা যোগ্য নাগরিক হয়ে উঠতে পারবো। আমি স্কুলের সাফল্য প্রত্যাশা করছি।
--
মোঃ ইব্রাহিম
৮ম শ্রেণি, রোল-১
প্রত্যেক খেলার জন্য আলাদা দল থাকলেও খেলার উপকরণের অপ্রতুলতার দরুন অনুশীলন করতে কিছুটা সমস্যা হয়। আমি চাই পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা অনুশীলনের মাধ্যমে সুস্থ শরীর গঠন করে দেশমাতৃকায় সেবায় এ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী অবদান রাখুক এটাই আমার প্রত্যাশা। বিদ্যালয়টি এই প্রত্যাশা পূরণে সফল হোক।
---
মোসা. মনোয়ারা
৮ম শ্রেণি, রোল-৩
আমাদের বিদ্যালয়টি খুব দ্রুতগতিতে সব দিক দিয়ে সামনের পথ পাড়ি দিলেও একটি ক্যান্টিনের অভাব পরিলক্ষিত হয়। আমি চাই আমাদের বিদ্যালয়ে একটি ক্যান্টিন স্থাপন করা হোক যাতে করে আমরা সবাই স্বল্প দামে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে পারি। আমি চাই আমাদের বিদ্যালয়টি নগরীর একটি শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।
---
যাওয়াত আহম্মেদ
৭ম শ্রেণি, রোল-৩
আগের তুলনায় পারিপার্শ্বিক অবস্থা বেশ ভালো হয়েছে। কম্পিউটার ল্যাব ও বিজ্ঞান শেখার পরীক্ষাগার তুলনামূলক আরো ডিজিটাল করা হলে আমাদের আরো দ্রুতগতিতে চারপাশের পরিবেশের সাথে তাল মিলেয়ে চলতে সহজ হবে। শুধু চট্টগ্রামেই নয়, সারা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পাক আমাদের বিদ্যালয়টি।
---
মোঃ মঈনুদ্দিন
৬ষ্ঠ শ্রেণি, রোল-১
বিদ্যালয়ের পাঠাগারে পাঠ্য বইয়ের সংখ্যা আরো বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশি জার্নাল রাখা হলে আমাদের সাধারণ জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও শিক্ষা সহায়ক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চাই। এ বিদ্যালয় চট্টগ্রামের সেরা বিদ্যালয়গুলোর একটি হয়ে উঠুক। যাতে আমরা এ বিদ্যালয় নিয়ে গর্ব করতে পারি।
মো: গিয়াস উদ্দিন
অধ্যক্ষ
ঐতিহ্যবাহী হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা ও অদক্ষতার দরুন প্রতিষ্ঠানটির যাত্রাপথে ছন্দপতন ঘটে। সংকটকালীন সময়ে এ প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বভার গ্রহণের পর এলাকার বিশিষ্টজন ও নবীন-প্রবীণ শিক্ষকদের নিয়ে বিদ্যালয়টির হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার ও প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন করে প্রাণ দেয়ার চেষ্টা চলছে। বিদ্যালয় কমিটির সাথে সংশ্লিষ্ট ও
দাতাগোষ্ঠীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টির পুরনো ভবন ভেঙে নতুন দুইটি প্রশাসনিক ভবন, প্রধান বিল্ডিং, বিজ্ঞান ভবন, বড় আকারের শিক্ষক মিলনায়তন ভবনের কাজ শেষের দিকে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলা হয়েছে বিদ্যালয়ের নামে শপিং মল, যেটার উপার্জিত অর্থ বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে ব্যয় করা হবে।
