স্কুল-কলেজে থাকতেই বিতর্ক করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু স্কুলে বিতর্ক চর্চা না থাকায় সেটা আর সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তবে কলেজে ২য় বর্ষে পড়াকালীন বিতর্ক করার একটা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু সেটাও ভেস্তে গেল। এভাবেই বলছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তার্কিক সৈয়দ আব্দুল্লাহ শাওন। বিতর্ক করার তীব্র ইচ্ছা আর বাসনাই আজকে তাকে ক্যাম্পাসের সেরা বিতার্কিকে পরিণত করেছে। শাওন শুধু বিতার্কিকই নন। তিনি এখন বিতর্ক সংগঠন পরিচালনা করেন, ক্যাম্পাসের অন্যান্য সংগঠনে প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর একটি বিতর্ক ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেন। সেই থেকেই বিতর্ক চর্চা শুরু। নিজের ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও টেলিভিশন বিতর্কে অংশগ্রহণ। আর এর ফলস্বরূপ ড্রইং রুমে জমা হতে থাকে নানা রং বেরংয়ের ক্রেস্ট। তিনি বলেন, অধিকাংশ সময় বিতর্ক নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আব্বু-আম্মুর কাছে অনেক বকা-ঝকা শুনতে হয়। তবে টেলিভিশনে যখন আমাকে বিতর্ক করতে দেখে তখন তারা সবাই খুশি হয়। বিতর্ক চর্চা করে ক্যাম্পাস থেকে বাড়ি ফিরতে হলে বলতাম একটা কাজে ব্যস্ত ছিলাম। বিতর্ককে এত ভালোবাসেন কেন জিজ্ঞেস করলে বিজনেস স্টাডিজ ফ্যাকাল্টি ডিবেটিং ফোরাম (বিএফডিএফ)-এর সাবেক সিইএম শাওন বলেন, আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শুধু লেখাপড়া করলেই হয় না। এক বা একাধিক সৃজনশীল কাজের সাথে যুক্ত থাকা উচিত। সেই জন্যই বিতর্ক করি। বিতর্ক করলে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়, উপস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধি পায়, বৃদ্ধি পায় মানুষের সাথে কথা বলার দক্ষতা, নিজের মনোভাব দৃঢ়চিত্তে সবাইকে জানানোর ক্ষমতা। এছাড়া যুক্তি দিয়ে একটা বিষয় চিন্তা করা, কোন বিষয়ের গভীরে যাওয়া, ঘটনার বিশ্লেষণ করা, সর্বোপরি বিতর্ক জীবনের সর্বক্ষেত্রে যুক্তিবাদী মানুষ হতে সাহায্য করে। তার্কিক শাওন বলেন, আমরা রাজশাহীতে আন্তঃস্কুল, আন্তঃকলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতারও আয়োজন করি যাতে করে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যুক্তিবাদী হিসেবে গড়ে তোলে।
