বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই আবহাওয়া সংবাদ পরিবেশনের সময় সংবাদপাঠিকার পেছনে আবহাওয়ার নানা চিত্র কিংবা গ্রাফিক্স দৃশ্যের দেখা মেলে। এমনকি কেউ কেউ দর্শকদের সরাসরি দেখিয়ে আনেন সেই সময়ের সাগর বা আকাশ কতটা মেঘলা তার বাস্তব চিত্রও। আর এমনি করে আবহাওয়ার সংবাদ উপস্থাপন করতে যেয়েই নিজের ঠিক পেছনে থাকা বড় স্ক্রিনে কদাকার এক মাকড়সাকে দেখে রীতিমতো মূর্ছা যেতে বসেছিলেন কানাডার আবহাওয়াবিদ ও আবহাওয়া সংবাদ পাঠিকা ক্রিস্টি গর্ডন। গ্লোবাল বিসি’র স্কাই ট্র্যাকার অনুষ্ঠানে ক্রিস্টি যখন সরাসরি তার দর্শকদের জানিয়ে দিচ্ছিলেন যে আগামীকাল কোথায় কতটা বৃষ্টিপাত হতে পারে ঠিক তখনই তার পেছনের গ্রিন স্ক্রিনে (যেখানে আবহাওয়ার নানা চিত্র আর গ্রাফিক্স দেখানো হয়) আবির্ভাব ঘটে বিকট দর্শন আর বিশালাকৃতির এক মাকড়সার। মূলত প্রজেকশন ইউনিটের কাঁচের উপর বসে থাকার কারণেই সত্যিকারের আকৃতির চাইতে কয়েকগুণ বড় আর বিকট দেখাচ্ছিল মাকড়সাটিকে। সবমিলিয়ে আঁতকে যাওয়ার সব উপকরণ নিয়ে হাজির হওয়া মাকড়সাটির দিকে হঠাত্ চোখ পড়তেই আবহাওয়া সংবাদ পড়া বাদ দিয়ে চিত্কার করে ওঠেন গর্ডন। এ সময় তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে তার পেছনে থাকা মাকড়সাটি সত্যিকার অর্থে তার পেছনে নেই, বরং সেটি বসে আছে প্রজেকশন ক্যামেরার কাঁচের ওপর। তবে এ স্বত্তেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আবারও সংবাদ পড়া শুরু করতে কয়েক মিনিট সময় লেগে যায়। আর সরাসরি সম্প্রচারে মজার এই ঘটনা উপভোগ করেন গ্লোবাল বিসি’র অনেক দর্শকই। পরে এক সাক্ষাত্কারে এ সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ক্রিস্টি গর্ডন বলেন, ‘এটা সত্যিই খুব চমকে যাওয়ার মতো একটা বিষয় ছিল। আমার মনোযোগ ছিল আবহাওয়ার বিভিন্ন চিত্র দেখানোর দিকে। আর সেখানে তাকিয়ে যখন হঠাত্ মাকড়সাটিকে দেখলাম তখন হুট করে মনে হচ্ছিল যে সেটি বোধহয় হেঁটে হেঁটে আমার মাথায় এসে বসতে চাইছে। এমনকি এটা যে সত্যি আমার পেছনে নেই তা বুঝতে পারলেও মাকড়সা দেখিয়ে খবর পড়াটা সম্ভব ছিল না। তবে আমি খুব দ্রুতই বিষয়টি দর্শকদের বুঝিয়ে বলেছি এবং ঘটনাটি মজার হলেও দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি!’
