সিরাজদিখানে প্রাকৃতিক উপায়ে আলু সংরক্ষণকারীদের লোকসান

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৩, ২১:১৯
সিরাজদিখানে এবছর গোল আলু চাষীরা লাভের মুখ দেখলেও, প্রাকৃতিক উপায়ে আলু সংরক্ষণকারীদের ব্যাপক লোকসান গুণতে হচ্ছে। প্রত্যেক বছর আলু উত্তোলনের সময় অর্থাত্ ফাল্গুন মাসের চেয়ে আষাঢ় মাসে আলুর দাম একটু বেশি থাকে। তাই অনেক কৃষক লাভের আশায় কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণ না করে প্রাকৃতিক উপায়ে আলু সংরক্ষণ করে আষাঢ় মাসে আলু বিক্রয় করে। কারণ প্রাকৃতিক উপায়ে আলু সংরক্ষণ করলে কোল্ড স্টোরেজের বাড়তি ভাড়া গুণতে হয় না। কোল্ড স্টোরেজে এক মণ আলু রাখতে খরচ পড়ে যায় ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। তাই অনেক কৃষক বেশি লাভের আশায় ৪/৫ মাস প্রাকৃতিক উপায়ে আলু সংরক্ষণ করে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে আলু বিক্রয় করে থাকে। কিন্তু এবছর ঘটেছে ঠিক উল্টো। আষাঢ় মাসে আলুর দাম ফাল্গুন মাসের চেয়ে কম। এবছর কৃষক আলু উত্তোলনের সময় ফাল্গুন মাসে জমি থেকে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা মণ দরে আলু বিক্রয় করেছে। তখন অনেক কৃষক বেশি লাভের আশায় ঐ সময় আলু বিক্রয় না করে শ্রমিকের বাড়তি খরচ দিয়ে বাড়িতে প্রাকৃতিক উপায়ে আলু সংরক্ষণ করেছে। আর এখন বাজারে পাইকারি হিসাবে আলু বিক্রয় হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায়। প্রাকৃতিক উপায়ে গোল আলু সংরক্ষণ করতে গেলে কিছু নিয়ম-পদ্ধতি আছে। আলু সংরক্ষণের জন্য একটি ঘর প্রয়োজন। ঘরটি সব সময় আলো-বাতাস পাবার জন্য চারিপার্শ্বে কাঠের/মূলীর একটু ফাঁকা ফাঁকা বেড়া দেয়া হয়। নীচেও কাঠ কিংবা বাঁশের মাচা থাকে। মাঝে মাঝে আলু উপর নিচ করে নাড়াচাড়া করতে হয়। তবে প্রাকৃতিক উপায়ে আলু সংরক্ষণ করলে ২ থেকে ৩ শতাংশ আলু নষ্ট হয়ে যায়। উপজেলার বাসাইল গ্রামের মোঃ ওহাব খান জানান, তিনি এবছর প্রায় এক হাজার মণ গোল আলু প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষণ করেছেন। আলু উত্তোলনের সময় জমিতে ৩৯০ টাকা মণ দরে বিক্রয় না করে বাড়তি শ্রমিকের খরচ দিয়ে বাড়িতে সংরক্ষণ করেছে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে পাইকারী হিসাবে ২৩০ টাকা মণ দরে আলু বেচা-কেনা হচ্ছে। সে হিসাবে এখন তাকে প্রচুর লোকসান গুণতে হবে। কিন্তু গত বছর প্রাকৃতিক নিয়মে আলু সংরক্ষণ করে ভাল লাভ পেয়েছিলেন তিনি।