গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয় বলে মত দিয়েছেন ব্যাংকটির নির্বাচিত পরিচালকরা। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা বিকেন্দ্রীকরণ ও সরকারি শেয়ার বাড়ানোর পদক্ষেপ না নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পরিচালকরা বলেছেন ‘আমাদের ব্যাংক আমাদের মতো চলবে, ব্যাংকের বর্তমান যে আইন আছে সে আইনে চলবে। এর পরিবর্তন আমরা করতে দেবো না।’
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকটির নির্বাচিত নয় জন পরিচালক দেশবাসীর সামনে তাদের এই মতামত তুলে ধরেন। কমিশনের সুপারিশের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে ‘আমাদের গ্রামীণ ব্যাংক কেড়ে নিতে দিব না’ শিরোনামে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রসঙ্গত, গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের ১৩ সদস্যের মধ্যে নয়জন নির্বাচিত এবং বাকিরা সরকার মনোনীত। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচিত নয় জন পরিচালকই উপস্থিত ছিলেন। পরিচালনা পর্ষদের ময়মনসিংহ অঞ্চলের সদস্য তাহসিনা খাতুন লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। এসময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক সাজেদা, কুমিল্লা অঞ্চলের রেহানা আক্তার, সিলেট অঞ্চলের সুলতানা, গাজীপুর অঞ্চলের ছালেহা খাতুন, দিনাজপুর অঞ্চলের পারুল বেগম, বগুড়া অঞ্চলের মেরিনা, যশোর অঞ্চলের সাহিদা বেগম, পটুয়াখালী অঞ্চলের মোমেলা বেগম ও নওগাঁ অঞ্চলের সাবেক পরিচালক নাসিমা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
তাহসিনা খাতুন বলেন, আমরা পত্রিকা মারফত জানতে পেরেছি গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যত্ কাঠামো কী হবে, এ বিষয়ে সরকার গঠিত কমিশন আগামী ২ জুলাই তাদের সুপারিশ উপস্থাপন করবে এবং বুদ্ধিজীবীদের মতামত নিবে। তবে গ্রামীণ ব্যাংকের ৯৭ শতাংশের মালিক এর ঋণগ্রহীতা ও শেয়ারহোল্ডারদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কমিশন কোন মতামত নেয়নি। আমাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট হওয়ায় এ বিষয়ে আমাদের মতামত জানানোর প্রয়োজন বোধ করছি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা বিকেন্দ্রীকরণের ও সরকারি শেয়ার ৫১ শতাংশ করার প্রস্তাবসহ ব্যাংকের আইন কাঠামো পরিবর্তনের জন্য কমিশন যেসব সুপারিশ করেছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এসব সুপারিশ দেখে পরিচালকরা অবাক ও প্রচণ্ডভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা বলেন, পরিচালকদের সঙ্গে আলাপ না করেই তদন্ত কমিশন গ্রামীণ ব্যাংক ভাগ বাটোয়ারা করে দিচ্ছে। আইন পরিবর্তনের নামে এই ব্যাংক সরকারের নামে লিখে নেবার চেষ্টা আমরা সফল হতে দেবো না। তবে ব্যাংকের গ্রাহকদের স্বার্থে আইন সংশোধন বা পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তাদের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতেই তা করার দাবি জানান তারা।
সরকারকে উদ্দেশ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকার যদি কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের কাঠামো পরিবর্তন করে তাহলে এর ৮৪ লাখ সদস্য তাদের সন্তান, স্বামীসহ পুরো পরিবার নিয়ে ঢাকায় সমাবেশ করবে। দেশের মানুষ, দুনিয়ার মানুষ আমাদের পক্ষে আছে। ভোমরার বাসায় হাত দিবেন না, ফল ভালো হবে না। আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেবেন এটা আমরা কিছুইে হতে দেবো না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাহসিনা খাতুন বলেন, বর্তমান পরিচালনা ব্যবস্থায় ব্যাংকের কোনো সমস্যা হয়নি বরং লভ্যাংশ বেড়েছে। ২০১১ সালে ব্যাংকটি ৮৫ কোটি ও ২০১২ সালে ১৪৫ কোটি টাকা লাভ করেছে। সদস্যদের লাভের অংশ তাদের হিসাবে তুলে দেয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
