গল্প নয় সত্যি

অনাহারে স্থূলতা বাড়ে!

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৩, ১৯:৩৫
এত কাল ধরে খেয়ে না খেয়ে যারা তাদের ওজন কমানোর চেষ্টা করে আসছেন কিংবা কোনো একবেলার খাবার বাদ দিয়ে, অল্প করে খেয়ে যারা স্থূলতা থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন এবার তাদের জন্য রীতিমতো দুঃসংবাদই বয়ে এনেছেন যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক। স্থুলকায় ক’জন শিক্ষার্থীর উপর দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিচালনা করে তারা দেখিয়েছেন কী করে নিয়মিত খাওয়া মানুষের তুলনায় বরং খাওয়া এড়িয়ে চলা মানুষেরাই বেশি মোটা হন। তাদের দাবি, স্থূলতার হাত থেকে বাঁচার জন্য যারা সকালের খাবার এড়িয়ে চলেন তাদের ওজন বরং সকালে নাশতা করা মানুষদের চাইতেই তুলনামূলক বেশি বৃদ্ধি পায়। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গবেষকরা বলেন, আসলে আমাদের দেহঘড়ির নিয়মটাই এমনভাবে তৈরি হয়ে আছে যে প্রতি বেলায় খাবার গ্রহণের জন্য বা দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণের জন্য মস্তিষ্ক আপনাতেই এক ধরনের তাগিদ তৈরি করে। এর ফলে সকালে বা অন্য কোনো বেলায় খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকলে পরবর্তীতে মস্তিস্ক থেকে খাবার গ্রহণের চাহিদা আরও বেশি তৈরি হয়। আর এ কারণেই যে বেলায় খাওয়া বাদ দেওয়া হয় তার পরের বেলায় অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা বেড়ে যায়। গবেষণার অংশ হিসেবে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের ২১ জন শিক্ষার্থীর খাদ্যাভাসের উপর দীর্ঘ সময় নিয়ে গবেষণা করেন গবেষকরা। তারা দেখেন, এদের মধ্যে যেসব শিক্ষার্থী দিনের পর দিন সকালের নাশতা করা থেকে বিরত আছেন তাদের প্রায় সবাই দুপুরে বা রাতের খাবারে অন্যদের চাইতে তুলনামূলক বেশি খাদ্য গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তারা মূলত সকালের খাবারের ঘাটতিটিকেই পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করেন। তা ছাড়া এই দলের সদস্যদের খাবার বিশ্লেষণ করে তাতে অন্যদের তুলনায় বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবারেরও উপস্থিতি দেখা যায়। আর এভাবে তুলনামূলক বেশি পরিমাণ খাবার ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণেই সকালে বা দিনের অন্য কোনো সময়ে খাবার বাদ দেওয়া ব্যক্তিদের মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এ কারণে শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখার পাশাপাশি শরীরের যথাযথ কর্মক্ষমতা বজায় রাখার জন্য তিনবেলা পরিমিত পরিমাণে আহারের পরামর্শ দিয়েছেন এই গবেষকরা।