সোনাক্ষি সিনহাকে এবার বাঙালি নারীরূপে দেখা যাবে রুপালি পর্দায়। নাহ, বিহারি কন্যা সোনাক্ষি কোনো বাংলা সিনেমায় অভিনয় করছেন না। মুক্তি প্রতীক্ষিত বলিউডি ছবি ‘লুটেরা’য় এক বাঙালি জমিদার কন্যার চরিত্রে তাকে দেখা যাবে। এতদিন দর্শক তাকে যে রূপে দেখে আসছেন এখানে কিছুটা ভিন্নভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে হয়তোবা—তেমন প্রত্যাশা সবার। মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘লুটেরা’ ছবিতে তার অভিনয় এবং সোনাক্ষির ক্যারিয়ারের হালচাল ইত্যাদি বিষয় নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম খোকন
কয়েক মাস আগে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হিম্মতওয়ালা’ ছবিতে সোনাক্ষি সিনহাকে একটি আইটেম গানের দৃশ্যে পারফর্ম করতে দেখা গেছে। ‘থ্যাংক গড, ইটস ফ্রাইড্রে’ আইটেম গানটিতে আশির দশকের স্টাইলে অঙ্গভঙ্গি করে ডিসকোতে নেচেছেন তিনি। আশির দশকের ব্লক বাস্টার সিনেমা ‘হিম্মতওয়ালা’র সাম্প্রতিক রিমেক সংস্করণটি দর্শক একেবারেই গ্রহণ করেনি। বক্স অফিসে ধরাশায়ী এ ছবিতে আইটেম সঙটিতে পারফর্ম করে সোনাক্ষির তেমন কোনো লাভ হয়নি। এ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তেমন উত্তাপ ছড়ায়নি। এর আগে গত বছর ‘ওহ মাই গড’ ছবিতে প্রভুদেবার সঙ্গে ‘গো গো গোবিন্দা’ আইটেম সঙটিতে পারফর্ম করে যে ধরনের সাড়া জাগিয়েছিলেন, সোনাক্ষির প্রত্যাশা ছিল ‘হিম্মতওয়ালা’র আইটেম সঙটি তেমন আলোড়ন সৃষ্টি করবে। গত বছর সোনাক্ষির বেশ অনেকগুলো ছবি মুক্তি পেয়েছিল—‘রাওডি রাঠোর’, ‘জোকার’, ‘ওহ মাই গড’, ‘সন অব সরদার’, ‘দাবাঙ-২’। মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে একটি মাত্র ছবিবাদে বাকিগুলোর ব্যবসায়িক সাফল্য তার ক্যারিয়ারে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। সালমান খানের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে সোনাক্ষির পথ চলা শুরু। এরপর অক্ষয় কুমার, অজয় দেবগনের মতো জনপ্রিয় তারকা অভিনেতাদের সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। একজন নবাগতা নায়িকার ভাগ্যে সচরাচর তেমন সুযোগ জোটে না। প্রখ্যাত অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহার কন্যা হলেও অভিনেত্রী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেননি সোনাক্ষি। তার অভিনীত কোনো ছবি প্রযোজনা বা পরিচালনার ক্ষেত্রে তার বাবা-মা, কিংবা পরিবারের কোনো সংশ্লিষ্টতা লক্ষ করা যায়নি। নিজের যোগ্যতায় এগিয়ে চলেছেন ২৬ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী।
এতদিন অভিনীত ছবিগুলোতে সিনিয়র নায়কদের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করলেও ‘লুটেরা’ ছবিতে সোনাক্ষি অভিনয় করেছেন, নতুন প্রজন্মের অভিনেতা রণবীর সিং-এর বিপরীতে। এবারই প্রথম তারা পর্দা জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন। দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসাধন্য ‘উড়ান’ ছবির পরিচালক বিক্রমাদিত্য মওয়ানি পরিচালিত ছবি ‘লুটেরা’র গল্পের পটভূমির সময়কাল ১৯৫৩ সাল। একজন তরুণ আর্কিওলজিস্ট বরুণ শ্রীবাস্তব তার গবেষণার কাজে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মানিকদুর গ্রামে আসে। ওখানকার এক প্রাচীন মন্দির নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের সংস্পর্শে আসেন বরুণ। তার আচরণে মুগ্ধ হয় গোটা জমিদার পরিবার, বিশেষ করে সুন্দরী জমিদার কন্যা পাখি বরুণের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তার প্রেমে পড়ে যায়। কিন্তু তাদের দুজনের প্রেম পল্লবিত হওয়ার আগেই অতীত কিছু ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। একসময় বরুণ ওখান থেকে চলে আসতে বাধ্য হয়। যা পাখিকে বিপর্যস্ত করে, বরুণের অন্তর্ধানের পর তাকে ভুলতে চেষ্টা করে সে। যখন সবকিছু ভুলে পাখি নতুনভাবে জীবনটাকে সাজাতে প্রস্তুতি নেয় তখন এক অসাধারণ মুহূর্তে বরুণ আবার এসে উপস্থিত হয় পাখির সামনে। শুরু হয় নতুন নাটক। এমনি গল্পের ছবি ‘লুটেরা’য় বরুণ ও পাখি চরিত্রে রূপদান করেছেন যথাক্রমে রণবীর সিং ও সোনাক্ষি সিনহা। প্রখ্যাত ইংরেজি সাহিত্যিক ও’ হেনরির ছোট গল্প ‘দ্য লাস্ট লিফ’ অবলম্বনে ‘লুটেরা’র গল্প ও চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছে। এ ছবির বড় একটি অংশের শুটিং হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি এলাকায়। দ্বিতীয় অংশের শুটিং হয়েছে কাশ্মির অঞ্চলে।
‘লুটেরা’ ছবিতে এক বাঙালি জমিদার কন্যা পাখির চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে সোনাক্ষি সিনহা বলেন, ‘আমি প্রথমবারের মতো কোনো বাঙালি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি এখানে। ৫০ দশকের একজন সত্যিকার বাঙালি তরুণীর সাজসজ্জা পোশাকআশাকে নিজেকে সাজাতে হয়েছে। এ জন্য এক্ষেত্রে বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলতে আমি অনেক সিরিয়াস ছিলাম। বাঙালি মেয়েদের মতো শাড়ি পরতে হয়েছে, মাথার চুল বাঁধতে হয়েছে, আমার বডি ল্যাঙ্গুয়েজে বাঙালিভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে, মুখে সংলাপ হিন্দিতে বললেও আমার সম্পূর্ণ অবয়বে বাঙালি মেয়ের সবকিছুই ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে। পুরো ব্যাপারটিকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। তবে বাঙালি মেয়ে সাজতে আমাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছে ছবির পরিচালক ও ড্রেস ডিজাইনার। পঞ্চাশের দশকে অভিজাত পরিবারের মেয়েরা যে ধরনের স্টাইল করত, কাপড়চোপড় পরত তা অনুসরণ করতে হয়েছে আমাকে। কাপড়চোপড়, জুয়েলারি, হেয়ারস্টাইল, মেকআপ সবকিছুতেই সেই সময়ের রুচি ও পছন্দ ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে আমাকে। খুবই সাদামাটা সাজপোশাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি বেশির ভাগ সময়। দর্শক আমাকে বাঙালি মেয়ে হিসেবে ভালোভাবেই গ্রহণ করবে বলে আশা করছি।’
‘লুটেরা’ ছবিতে শুটিংয়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন লোকেশনে কাজ করতে গিয়ে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সোনাক্ষিকে। তবে এ ছবিতে নিজের ভিন্ন রকমের লুক, অভিনীত চরিত্রের বৈচিত্র্য, লোকেশনের চমক, গল্পে নাটকীয়তা নিয়ে তার মনে বিশেষ অনুভূতি ছড়িয়ে আছে। অভিনয় জীবনে এর আগে যে ধরনের নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন ‘লুটেরা’র পাখি চরিত্রটি তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ট্র্যাকের বলে দাবি করেন সোনাক্ষি সিনহা।
আগামী আগস্টে মুক্তি পাবে সোনাক্ষির আরেকটি উল্লেখযোগ্য ছবি ‘ওয়ানস আপন অ্যা টাইম ইন মুম্বাই অ্যাগেইন’। এ ছবিতে দুই গ্যাংস্টার অক্ষয় কুমার ও ইমরান খানের বিপরীতে একজন চলচ্চিত্র নায়িকা ইয়াসমিন মির্জ্জার চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। এ ছবিটিও সোনাক্ষির ক্যারিয়ারে নতুন মাত্র যুক্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছবিটির প্রচারণা শুরু হয়েছে। এ ছবিতে বিভিন্ন গানের দৃশ্যে সোনাক্ষির গ্ল্যামারাস উপস্থিতি দর্শকদের উত্সাহিত করে তুলেছে এর মধ্যেই। এ বছরেই সোনাক্ষির আরও দুটি ছবি ‘বুলেট রাজা’ ও ‘রাম্বো রাজকুমার’ মুক্তি পাবে। ‘বুলেট রাজা’য় তার নায়ক সাইফ আলি খান আর ‘র্যাম্বো রাজকুমার’-এ শহিদ কাপুর। ওদিকে ‘গজনী’খ্যাত পরিচালক এ আর মুরুগাডোসের নির্মিতব্য ‘পিস্তল’ ছবিতে আবার অক্ষয় কুমারের সঙ্গে অভিনয় করতে যাচ্ছেন সোনাক্ষি।
