তরুণ এ গায়িকা আসর মাতিয়ে চলছেন বেশ কয়েক বছর ধরেই। হঠাত্ করেই সবার নজর কাড়েন একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এসে নজরকাড়া পারফর্মেন্স দিয়ে। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার নতুন অ্যালবাম। মুক্তির সাথে সাথেই বেশ সাফল্য পেয়েছে অ্যালবামটি। মেক্সিকান এই তরুণ গায়িকার গল্পটি লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
নিউ মেক্সিকোর আলবুকুয়েরি শহরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ডেমি লোভার্টোর। ২০ আগস্ট জন্ম নেওয়া ডেমিকে দেখে তার বাবার এক বন্ধু বলেছিল, ‘মেয়ে বড় হয়ে নাম করবে।’ পরবর্তীতে দেখা গেল এ কথাটাই সত্যি হয়েছে। ডেমির বাবা-মা কখনও তাদের মেয়েকে কোনো কাজে বাধা দেননি। ডেমি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই বন্ধুদের সাথে গান নিয়ে মেতে থাকতেন। বড় বোন ডালাস ছিলেন এক নামকরা অভিনেত্রী। অভিনয়ের স্বার্থে তিনি ২০ বছর বয়সেই পরিবার থেকে আলাদা থাকতে শুরু করেন। ডেমি মাঝে মাঝে তার সাথে দেখা করতে যেতেন। বড় বোনের সান্নিধ্যে থেকে ডেমিও স্বপ্ন দেখতেন একসময় অনেক বড় তারকা হবেন। তবে নায়িকা নয় গায়িকা পরিচয়ে। শ্রোতা মাতিয়ে সবার হূদয়ে জায়গা করে নেওয়ার ইচ্ছে তার সবসময়ই ছিল। স্বপ্নের পথে হাঁটতে গিয়ে পাশে পেয়েছিলেন সেলিনা গোমেজকে। তারা দুজন অনেক ভালো বন্ধু ছিলেন। ছিলেন বলাটা একটু ভুল হবে, কারণ এখনও তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধনটা অটুট আছে। যদিও কাজের তোড়ে দুজনেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাদের দুজনের পরিচয়টা হয় খুব অল্প বয়সেই। ‘বার্নি অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ টেলিভিশন সিরিজে গিটার বাজানোর কাজ পেয়েছিলেন ডেমি। সেখানে গিয়েই পরিচয় হয় গোমেজের সাথে। সেখান থেকে তারা একসাথে নাচের ক্লাস ও অভিনয়ের ক্লাসে যেতেন। দুজনের অনেক কিছুতেই মিল থাকায় তাদের বন্ধুত্ব অনেক গাঢ় হয়ে যায় খুব সহজেই। এরপর হঠাত্ করেই ডেমির পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। তার পরিবার থেকে তাকে হোমস্কুলিংয়ের জন্য বলা হয়। বাইরে পড়ার সুযোগ না থাকায় তাকে শেষ পর্যন্ত হোমস্কুলিং গ্রহণ করতে হয়। ২০০৯ সালের এপ্রিলে হোমস্কুলিং থেকে ডেমি হাই স্কুল ডিপ্লোমা লাভ করেন।
২০১০ সালে তিনি কিছু টেলিভিশন সিরিজের জন্য বেশ কিছু সাউন্ডট্র্যাক নিয়ে কাজ করেন। পরের বছরগুলো তার জন্য খুব একটা সুখের ছিল না। অনেক কষ্ট ও সংগ্রামের পর ২০১১ সালে এসে তার তৃতীয় অ্যালবাম মুক্তি পায়। ‘আনব্রোকেন’ নামে তার এই অ্যালবামটি বেশ ভালোই সাড়া ফেলে। এর ভেতর থেকে ‘স্কাইস্ক্র্যাপার’ গানটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
ডেমি একাধারে একজন গায়িকা, গীতিকার এবং অভিনেত্রী হিসেবে জনপ্রিয়। ছোটবেলা থেকেই গান ও অভিনয় নিয়ে মেতে থাকলেও এই জগতে তার আনুষ্ঠানিক পথচলার শুরু হয় ২০০৮ সাল থেকে। ‘ক্যাম্প রক’ নামের একটি টেলিভিশন সিরিজ থেকে শুরু করেন তার অভিনয়ের ক্যারিয়ার। এরপর তার সংগীত প্রতিভার কথা জানতে পেরে হলিউড রেকর্ডস তাকে প্রস্তাব দেয় তাদের সাথে অ্যালবামের কাজ করার জন্য। ওই বছরই তিনি স্টুডিওটির সাথে চুক্তি করেন। ‘ডোন্ট ফরগেট ইন সেপ্টেম্বর’ নামের একটি অ্যালবাম বের করেন তিনি। আমেরিকান রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি থেকে তার এই অ্যালবামটিকে ‘গোল্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। পরের বছর আরও একটি টিভি সিরিয়ালে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। একই সাথে ‘হেয়ার উই গো অ্যাগেইন’ নামের দ্বিতীয় অ্যালবাম মুক্তি পায়। মুক্তির সাথে সাথেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এটি। শুধু তাই নয়, সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইউএস বিলবোর্ডের টপ ২০০ অ্যালবামের মধ্যে জায়গা করে নেয় সেটি।
সম্প্রতি তার নতুন অ্যালবাম মুক্তি পেয়েছে ‘ডেমি’ নামে। মুক্তির সাথে সাথেই তার এই অ্যালবামের লিড গান, ‘হার্ট অ্যাটাক’ টপ চার্টে উঠে পড়েছে। সোলো এই গানটি বেশ নাড়া দিয়ে যায় শ্রোতাদের। পপ ধাঁচের এই ভালোবাসার গান ছুঁয়ে গেছে সকলকে। আর গানের প্রতি ভালোবাসা আছে বলেই তিনি আজ উঠে এসেছেন সাফল্যের শীর্ষে।
