প্রত্যেক বছরই অ্যানিমেশন মুভির ভক্তরা হলিউডের কাছ থেকে বিশেষ কিছু আশা করে থাকে। তবে বিগত কয়েক বছরে ‘টয় স্টোরি’-এর পর পর দুটি সিক্যুয়াল যেখানে ভক্তদের আশা পূরণ করতে পেরেছে, সেখানে ‘কারস টু’ তেমন সফল হয়নি। সেই দিক থেকে এগিয়ে আছে পিক্সার। অ্যানিমেশন প্রোডাকশন পিক্সার আবারও প্রস্তুত। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মনস্টার ইনকর্পোরেটেড’-এর এক যুগ পর এবার আসছে এর সিক্যুয়াল ‘মনস্টারস ইউনিভার্সিটি’। লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
বিলি ক্রিস্টাল এবং জন গুডম্যানের কণ্ঠে সালি এবং মাইক, যাদের পরিচয় হয়েছিল একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে, এবারের পর্বে দেখা যাবে তাদের ভেতরকার গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের এক অন্যরকম রূপ।
‘মনস্টার ইঙ্ক’ মুক্তি পেয়েছিল ১২ বছর আগে। এক যুগ পর এবার মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘মনস্টার ইউনিভার্সিটি’। ‘মনস্টার ইঙ্ক’ অ্যানিমেটেড ছবিটি দেখে যারা হেসে কুটিকুটি হয়েছেন, কাহিনীর অভিনবত্বে চমকিত হয়েছেন, এই এতগুলো বছর তাদের অপেক্ষা কেবল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতরই হয়েছে। অবাক বিস্ময়ে তারা শুধু ভেবেছেন, ছবিটির সিক্যুয়াল কেন বানাচ্ছে না পিক্সার! অবশেষে ‘মনস্টার ইঙ্ক’ ভক্তদের অপেক্ষার পালা শেষ। তবে ছবিটির ঠিক সিক্যুয়াল মুক্তি দিচ্ছে না পিক্সার। অ্যানিমেটেড ছবি নিয়ে বিখ্যাত এ প্রতিষ্ঠানটি বানিয়েছে ‘মনস্টার ইঙ্ক’-এর পূর্বকাহিনী। অর্থাত্, প্রিক্যুয়াল।
‘মনস্টার ইঙ্ক’-এ গল্প বলা হয়েছিল দুই দৈত্য, বিশালদেহী ভয়ংকর দর্শন জেমস পি সুলিভান এবং তার সহকারী ও খুব কাছের বন্ধু, একচোখা বল-আকৃতির দৈত্য মাইক ওয়াজস্কির। আরও অনেক দৈত্যর মতো এই দুই বন্ধু চাকরি করে মনস্টার ইঙ্ক নামের সুবিশাল প্রতিষ্ঠানে। যে প্রতিষ্ঠানের কাজই হলো টাইম মেশিনের মতো কাজ করা বিশেষ দরজা দিয়ে রাতের বেলায় পৃথিবীর বিভিন্ন বাড়িতে হানা দিয়ে বাচ্চাদের ভয় দেখানো। ‘উই স্কেয়ার বিকজ উই কেয়ার’—এই হলো তাদের জীবনের আদর্শ। বাচ্চাদের ভয় দেখানোর মাধ্যমে তৈরি হয় ‘এনার্জি’। যে এনার্জি দিয়ে চলে দৈত্যদের শহরের সবকিছু। যে বেশি ভয় দেখাতে পারে, সে পায় বেশি পয়েন্ট। নির্বাচিত হয় সেরা দৈত্য।
একদিন দৈত্যদের সেই দুনিয়ায় দুর্ঘটনাক্রমে চলে আসে বু। সেই বু-কে তার নিজের পৃথিবীতে পৌঁছে দেওয়ার মিশনে নামে সুলি ও মাইক। একসময় আবিষ্কৃত হয়, বাচ্চাদের ভয় দেখিয়ে যত এনার্জি উত্পাদিত হয়, তার চেয়ে শতগুণ বেশি এনার্জি উত্পাদিত হয় বাচ্চাদের হাসাতে পারলে। এর পর থেকে মনস্টার ইঙ্কের কর্মীরা ভয় দেখানোর বদলে বাচ্চাদের হাসানোর কাজে নেমে পড়ে।
এবারের ছবির গল্পটার কাহিনী ‘মনস্টার ইঙ্ক’-এর গল্পের ঠিক ১০ বছর আগের। সুলি তখনও দৈত্যদের জগতে এতটা সুখ্যাত হয়নি। মাত্রই পড়াশোনা করতে এসেছে দৈত্যদের বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে ভয় দেখানোর ওপর পড়াশোনা করে সুলি। পড়তে এসেই সুলির সঙ্গে পরিচয় হয় মাইকের। মাইক ভীষণ সিরিয়াস ছাত্র। একদিন পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দৈত্য হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে। তাকে দেখলেই যেন বাচ্চারা ভয় পেয়ে যায়—এই মাইকের আশা।
১৮ বছর বয়সী সুলি আর ১৭ বছর বয়সী মাইক চরিত্রের দিক দিয়ে একেবারেই উল্টো ধরনের। মাইক যেমন ভয়বিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা ছাড়া আর কিচ্ছু বোঝে না, অপরদিকে সুলি একদম অন্যরকম। একসময় দুজন দুজনের শত্রু হয়ে যায়। এই শত্রুতা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় গাঢ় বন্ধুত্বে।
ছবির গল্প লিখেছেন যৌথভাবে ড্যানিয়েল গারসন, রবার্ট বেয়ার্ড এবং ড্যান স্ক্যালন। স্ক্যালন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
