একের ভেতর দুই

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৩, ২০:০৭
ছোটপর্দায় বহু সফল গল্পের রূপকার হিসেবে দর্শকদের পছন্দের এক তারকার নাম মীর সাব্বির। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অভিনয় করছেন নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাও করেছেন দর্শকনন্দিত বেশ কিছু নাটক। তাকে নিয়ে লিখেছেন অজেয় চৌধুরী ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু একজন অভিনেতা যখন কোনো চরিত্রকে তার রক্ত কণিকায় মিশিয়ে দিতে পারেন, তখনই সেটা দর্শকদের ভাবনা ও আবেগকে ছুঁয়ে যায়। মীর সাব্বির প্রায় প্রতিটি চরিত্রকেই ডুবিয়ে দেন নিজের মাঝে। আর সেসময় তার পুরো অবয়বই চরিত্র হয়ে যায়। ‘বিষকাঁটা’ নাটকে আক্কাছ চরিত্রে অভিনয় করে লাইম লাইটে চলে আসেন তিনি। এরপর সাফল্যের প্রাপ্তি তাকে শুধু সামনেই এগিয়ে নিয়ে গেছে। এ পর্যন্ত একক, টেলিফিল্ম, ধারাবাহিক মিলিয়ে প্রচুর নাটকে অভিনয় করেছেন। শুধু তথাকথিত নায়ক চরিত্রেই সাব্বির নিজেকে বেঁধে রাখেননি। নানা চরিত্রে কাজ করে ভার্সেটাইল অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। অভিনয়জীবনের কিছু পছন্দের কাজের গল্প নিয়ে মীর সাব্বির বলেন, ‘বিষকাঁটা’ আমার অভিনয় জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। এরপর অসংখ্য নাটকে কাজ করেছি। এর মধ্যে এই মুহূর্তে উল্লেখযোগ্য হলো—‘জনক’, ‘অতঃপর নুরুল হুদা’, ‘কি সুন্দর মন্দ’, ‘একটি সুন্দর সকাল’, ‘উট’, ‘হোমিও রোমিও’, ‘চেরাগ আলি’, ‘স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন’। আসলে আমার অভিনীত প্রতিটি চরিত্রই আমার প্রিয়। কয়েক বছর আগে হঠাত্ করেই নাটক প্রযোজনায় নাম লেখান মীর সাব্বির। নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফুলঝুরি থেকে ‘মনের রাজা’ নাটকে পূর্ণিমার বিপরীতে অভিনয় করে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন। ঠিক একইভাবে চলে আসেন নাটক পরিচালনাতেও। ‘বরিশাল বনাম নোয়াখালী’ নাটক দিয়ে নাট্য পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশের পাশাপাশি তার জয়যাত্রা শুরু হয়। এই একক নাটকটি দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ার পর সিক্যুয়াল ‘বরিশাল বনাম নোয়াখালী শুভ বিবাহ’ নির্মাণ করেন। সেটিও দর্শকরা ভালোভাবেই গ্রহণ করেন। মূলত একক নাটকের সাফল্যই তাকে ধারাবাহিক নাটক নির্মাণে প্রেরণা দেয়। যার ফলে নির্মিত হয় তার প্রথম ধারাবাহিক ‘মকবুল’। নাটকে দেখা যায় বরগুনার এক প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা চরিত্র মকবুল। মানুষের ভিড়ের মধ্যে সে নিজেকে মিশিয়ে দিতে চায়। দেখতে চায় মানুষের মুখ। চলার পথে মকবুলরূপী কিছু মানুষের সঙ্গে তার দেখা হয়। নামের মিল থেকে ঘটে মনের মিল। মকবুল খুঁজে পায় আরও অনেক মকবুলকে। মকবুল হচ্ছে একটা শক্তি। বাস্তবে মকবুলরা সেই শক্তি কাজে লাগিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে কতটা পৌঁছাতে পারে, তা-ই তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে নাটকে। ছোটপর্দার বাইরে মীর সাব্বির চলচ্চিত্রের রঙিন ক্যানভাসেও নিজেকে মেলে ধরেছেন। ‘কী জাদু করিলা’ নামের একটি চলচ্চিত্রে কাজের মাধ্যমে তার এ ভুবনে অভিষেক ঘটে। সম্প্রতি নায়ক ফেরদৌস প্রযোজিত ‘এক কাপ চা’ চলচ্চিত্রের অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন। মীর সাব্বির বলেন, ‘ফেরদৌসের অনুরোধে কাজটি করতে বাধ্য হয়েছি। নাটকে অনেক ব্যস্ততা সত্ত্বেও আমি তার প্রযোজিত প্রথম ছবিতে কাজ করেছি। এই ছবিতে আমি অতিথি শিল্পী হিসেবে কাজ করলেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশে দর্শক আমাকে দেখতে পাবেন।’ মনের মতো ভালো আরও কিছু চলচ্চিত্রে কাজ করার আগ্রহ তার আছে বলে তিনি জানালেন। সম্প্রতি শেষ করলেন আসছে ঈদের জন্য নির্মিত ‘ভালো তো ভালো না’, ‘রাজকন্যা আলাদিন আর দৈত্য’সহ আরও কয়েকটি একখণ্ডের নাটক। তার বর্তমানের ব্যস্ততা ঈদের নাটকের অভিনয় নিয়েই। অভিনেতা পরিচয়ের বাইরে নিজেকে একজন দর্শক পরিচয় দিতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন মীর সাব্বির। শুটিংয়ের অবসরে যেটুকু সময় পান নিজের ও অন্যান্য অভিনয়শিল্পীদের অভিনয় দেখে ভুল-ত্রুটি সংশোধনের চেষ্টা করেন।