একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যে মানুষের জীবনের কত বড় আশির্বাদ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে সিরাজগঞ্জ হার্টিকুমরুল-নাটোর বনপাড়া মহাসড়ক তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরন। শুধুমাত্র একটি সড়ক নির্মাণের ফলে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে চলনবিলের অবহেলিত শত শত গ্রাম জনপদে। শুধু একটি সড়ক নির্মাণের ফলে এলাকার শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বানিজ্য, আর্থ-সামাজিক অভাবনীয় উন্নয়ন ও আমুল পরিবর্তনের কথা কেও কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৯৯৬ সালে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার দু’বছরের মাথায় ১৯৯৮ সালে এই সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। যার বদৌলতে চলনবিলের লাখো মানুষের দিন এখন বদলে দিয়েছে।
পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলা নিয়ে চলনবিল অঞ্চল গঠিত। সড়কটি নির্মাণের ফলে ৬টি উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুর দাড়িয়েছে। তত্কালীন বৃটিশ সরকার ১৯১৪ সালে চলনবিলের বুকচিরে রেল লাইন তৈরী করেছিল সেটাই ছিল তত্কালীন সময়ের একমাত্র যোগাযোগের পথ। ভাঙ্গুড়া-চাটমোহর, বড়ালব্রিজ-মোহনপুর-সহ অনেক ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের এই রেলপথ ছিল যাতায়তের একমাত্র রাস্তা। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, রাস্তাঘাট না থাকায় একসময় এ অঞ্চলের মানুষেদের জেলা শহরে যাতায়াত করতে দু’দিন সময় লাগতো। কাঁদা-পানি ভেঙ্গে, গরুরগাড়ী বা ভ্যানে চরে আসতে হতো তাদের। বৃটিশ সরকার এই অঞ্চলের মানুষের কথা ভেবে রেললাইন তৈরী করে। প্রায় আড়াই’শ বছর পরে ১৯৯৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার মহাসড়কটি তৈরীর উদ্যোগ নেয়।
