টানা তিন কর্মদিবস দরপতনের পর গতকাল বুধবার উভয় শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। গতকাল লেনদেনের শুরুতে বেশ কয়েকটি কোম্পানির লেনদেনে ক্রেতা থাকলেও বিক্রেতা ছিল না। ফলে শেয়ারের দর ৮ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তবে শেষদিকে কিছুটা দরপতন হয়।
তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ১৯০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মূল্যসূচক ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৬৫ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৭৮৬ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৭৫ কোটি টাকা বেশি। লেনদেনকৃত ২৮৮টি কোমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭৯টির, কমেছে ৮২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির।
এদিকে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসই’র ৫১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ২০১১-১২ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবসহ এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০-১১ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১১-১২ অর্থবছরে ডিএসই’র প্রায় সব ক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ধাক্কা মহাধসের।
২০১১ সালের ৩০ জুন ডিএসইতে ২৩২টি কোম্পানি ও ৩৫টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ছিল। যা ২০১২ সালের ৩০ জুনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৮টি কোম্পানি ও ৪১টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। আর ২০১১-১২ অর্থবছরের শুরুতে বাজার মূলধন ২ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা হলেও বছর শেষে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি বা ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা।
২০১১-১২ অর্থবছরে শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ব্যাপক হারে কমে যায়। ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৮৫৭ কোটি ৯৭ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়। যার দর ১ লাখ ১৭ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। আর ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৯৬৯ কোটি ৫২ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়। যার দর ৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে শেয়ারের পরিমাণে খুব একটা পার্থক্য না থাকলেও মহাধসের কারণে দর প্রায় ৩ ভাগের ১ ভাগে নেমে আসে। আর ২০১০-১১ অর্থবছরে গড় দৈনিক যেখানে লেনদেন হয় ১৩৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকার সেখানে ২০১১-১২ অর্থবছরে হয় মাত্র ৪৯২ কোটি ২০ লাখ টাকার।
২০১০-১১ অর্থবছরে ২৬ হাজার ৬৬৪ মিলিয়ন টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ১৯টি সিকিউরিটিজ ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হলেও ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৭ হাজার ৯৫১ মিলিয়ন টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ১৫টি সিকিউরিটিজ ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়। ২০১০-১১ অর্থবছরের তুলনায় ২০১১-১২ অর্থবছরে লেনদেন, সূচক, তালিকাভুক্তি কোম্পানির সংখ্যা ইত্যাদি কমেছে। যা ২০১২-১৩ অর্থবছরেও ধারাবাহিক আছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে এমনো লেনদেন হয়ছে যা ছিল কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
