দেশের বিভিন্ন আদালতে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে দুই ধরনের বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। এসব মামলার বিরোধ বিকল্প পদ্ধতিতে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে টেবিলে উপস্থাপন করা প্রশ্নোত্তর পর্বে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সংসদকে এ কথা জানান।
ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে আইন মন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন আদালতে পাঁচ বছরের অধিক অনিষ্পন্ন অর্থাত্ দীর্ঘমেয়াদী বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার সংখ্যা এক লাখ ৬৫ হাজার ৩০৪টি। দেওয়ানী মামলার সংখ্যা এক লাখ ১৯ হাজার ৩১টি। দীর্ঘমেয়াদী বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তির জন্য নিম্ন আদালতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের বিষয়টি নিম্ন আদালতের স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে এসব মামলা নিষ্পত্তির জন্য ইতিমধ্যেই দেওয়ানী কার্যবিধি সংশোধন করে দেওয়ানী মামলাগুলো বিকল্প পদ্ধতিতে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অপরদিকে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বেগম সানজিদা খানমের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রতিটি জেলায় পিওর ফুড কোর্ট স্থাপন করা হয়েছে। সাতটি বিভাগীয় শহরে সাতটি সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দেশের ১৭টি জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং ঢাকা বিভাগে একটি সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মো. হাবিবর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, উপজেলা সদরে দেওয়ানী ও ফৌজদারি আদালত স্থাপনের কোন পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই। তবে জেলা সদর থেকে উপজেলা সদরের দূরত্ব ও যাতায়াত ব্যবস্থার অসুবিধা বিবেচনা করে কিছু কিছু উপজেলা সদরে দেওয়ানী ও ফৌজদারি আদালত স্থানান্তর করা হচ্ছে। এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিচার বিভাগীয় ৮৭ জন কর্মকর্তা প্রেষণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় কর্মরত রয়েছেন।
